ইউআইইউর সহযোগিতায় জামালপুরে ‘রোবো ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত © সংগৃহীত
রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে জামালপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘রোবো ফেস্ট-২০২৬’। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সহযোগিতায় এবং ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুরের সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাব ও ইউনাইটেড ট্রাস্টের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) ‘এ জার্নি ইনটু দ্য ওয়ার্ল্ড অব রোবোটিকস’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের সামনে রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়।
উৎসবে ইউআইইউ সেন্টার ফর এআই অ্যান্ড রোবোটিকসের (সিএআইআর) উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ইউআইইউ মার্স রোভার, ইউআইইউ এরিয়াল রোবোটিকস, ইউআইইউ রেসকিউ রোভার ও ইউআইইউ মেরিনার। এতে জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এম এ রশিদ মেমোরিয়াল একাডেমি এবং এম এ গফুর মেমোরিয়াল একাডেমির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রদর্শনীতে ইউআইইউ সেন্টার ফর এআই অ্যান্ড রোবোটিকসের সদস্যরা গ্রাউন্ড, মেরিন ও এরিয়াল—এই তিন ক্ষেত্রে রোবোটিকস প্রযুক্তির বিভিন্ন উদ্ভাবন ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। গ্রাউন্ড রোবোটিকসের আওতায় মার্স রোভার ও রেসকিউ রোভার, মেরিন রোবোটিকসের আওতায় ইউআইইউ মেরিনার এবং এরিয়াল রোবোটিকসের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এসব রোবট সরাসরি দেখার পাশাপাশি এগুলোর কার্যপ্রণালি ও ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, ইউআইইউ মার্স রোভার দল ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে তৃতীয় এবং এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই প্রতিযোগিতায় দলটি ‘বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম রিকগনিশন’ পুরস্কারও পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এশিয়ার ২০ বছরের রোভার প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এটি একটি অনন্য অর্জন।
অন্যদিকে, ইউআইইউ এরিয়াল রোবোটিকস দল ‘স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রথম বাংলাদেশি দল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে দলটি।
আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোবোটিকস, প্রোগ্রামিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রকৌশল নকশা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বাস্তব ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জামালপুরের শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং ও রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত হবে।