দুই বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদে আবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ © টিডিসি
টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদে আবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদের দুই তীরে নামে উৎসবের আমেজ। নৌকাবাইচ দেখতে তিতাসের তীরে জড়ো হন অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য গত দুই বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে এবারের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে তিতাসের ঢেউ আর দর্শকদের উচ্ছাস যেন একাকার হয়ে উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইল কান্দি গাঁওগেরাম তিতাসের পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে পৌর এলাকার মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পর্যন্ত (প্রায় দেড় কিলোমিটার) গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। নৌকাবাইচে জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানের ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি ধাপ থেকে একটি করে বিজয়ীসহ চারটি নৌকা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
বেলা সাড়ে তিনটায় তিতাসের শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। উদ্বোধনের পর রং-বেরঙের বাহারি পোশাক পরিহিত প্রতিযোগী নৌকাবাইচের মাঝিদল তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার ও চিকিৎসক মো. আবদুল মতিন। এতে প্রথম স্থান অধিকারী সরাইল উপজেলার শাপলা ভযেস ক্লাবকে দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী জেলা সদরের দারমা গ্রামের নৌকাকে দেড় লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী জেলার নবীনগরের পুইল যুব সংঘকে এক লাখ টাকা পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে ৩০ হাজার টাকা ট্রফি প্রদান করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে তিতাসের দুই তীরে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন। তারা তীরবর্তী ভবনের ছাদ, বিভিন্ন ঘাট এবং নৌযানের ওপর বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।