আটক দুজন © সংগৃহীত
ঝালকাঠির রাজাপুরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবদল নেতার ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার বড় কৈবর্তখালী ও কানুদাসকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা ও চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজাপুর সদর ইউনিয়নের বড় কৈবর্তখালী এলাকার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম ওরফে জাকির মোল্লার ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা (২২), একই এলাকার মো. মোশারেফ সিকদারের ছেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় (২০) ও গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি এলাকার মো. মোশারেফ শরীফের ছেলে মো. আলী হোসেন শরীফ (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে রাজাপুর সদর ইউনিয়নের বড় কৈবর্তখালী এলাকার গাজীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা ও রিয়াজুল ইসলাম হৃদয়কে আটক করা হয়। পরে গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী হোসেন শরীফকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা ও চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি পুলিশের।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আটক মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাবা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় মাদক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। লিমন আটক হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে তাদের ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।