গাইবান্ধায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ PM
উদ্ধার করা সার

উদ্ধার করা সার © টিডিসি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই সাবেক জনপ্রতিনিধিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়া গ্রামে ৯ নম্বর বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহিন সরকারের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করে প্রশাসন।

উদ্ধার করা সারের তালিকায় রয়েছে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সার, ২৮ বস্তা জিপসাম সার, ১৬ বস্তা ডিএপি সার, ১৩ বস্তা টিএসপি সার এবং ২ বস্তা পটাশ সার। মোট ৭২ বস্তা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের মূল্যই ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা করে, যা মোট মূল্যের একটি বড় অংশ।

অভিযান শেষে সার মজুদের অপরাধে অভিযুক্ত মো. শাহিন সরকারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত বদিউজ্জামান সরকারের ছেলে এবং বয়স ৫৫ বছর। তিনি বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে অবৈধভাবে মজুত, বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের জন্য সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামে বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখা কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেক কৃষক জানান, তারা ন্যায্য মূল্যে সরকারি সার পাচ্ছেন না, অথচ বাড়ির ভেতর রেখে মজুতদাররা সেই সার কালোবাজারে বিক্রি করছেন।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন জানান, তারা নিয়মিত তদারকি করছেন এবং কোনো বাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুত পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকের স্বার্থেই এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন গাইবান্ধা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় সারের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে বিতরণ কার্যক্রমে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর মনিটরিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত মো. শাহিন সরকার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং বাড়িতে কিছু সার মজুত ছিল যা তিনি নিজের জমিতে ব্যবহারের জন্য রেখেছিলেন। তবে প্রশাসন বলছে, এত বিপুল পরিমাণ সার শুধু নিজের জমির জন্য নয়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছে বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সারের অভাবে কৃষকরা যখন চরম দুর্ভোগ পোহান, ঠিক তখন বাড়ির ভেতর লুকিয়ে সার মজুত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনা যেন অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার ও কৃষক স্বার্থ রক্ষায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ  উপজেলায় অবৈধ সার মজুতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের প্রতিস্থাপন কবে, জানাল এনটিআর…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল লরি
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
খাতা-কলম, বোতল রেখে বাসের সিট রিজার্ভ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
১৫ আগস্ট নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ২২ জন রিমান্ডে
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়া ১৬ কেজির কোরাল ২৪ হাজারে বিক্রি
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
৫ দফা দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬