কক্সবাজার সৈকতে বিরল টর্নেডোর আঘাত © সংগৃহীত
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলেন পর্যটকরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) গভীর সমুদ্রে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো উপকূলের দিকে ধেয়ে এসে সুগন্ধা ও সি-গাল পয়েন্ট এলাকায় আঘাত হানে। এতে পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি সৈকতে থাকা ১০ থেকে ২০টি ছাতা ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, শুক্রবার কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে টর্নেডোটি সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট সমুদ্রের ওপর অবস্থান করলে সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এ দৃশ্য উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
তিনি জানান, টর্নেডোটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে লাইফ গার্ড সদস্যরা দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। পানিতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে তীরে উঠে আসার জন্য বারবার বাঁশি (উইসেল) বাজিয়ে সতর্ক করা হলেও অনেকেই শুরুতে সেই নির্দেশনা গুরুত্ব দেননি।
জয়নাল আবেদীন ভূট্টো আরও জানান, একপর্যায়ে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্ট অতিক্রম করে সি-গাল পয়েন্ট দিয়ে উপকূলে উঠে আসে। উপকূলে এটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এ সময় প্রবল ঘূর্ণিবাতাসে কয়েকজন আহত হন এবং সৈকতের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে দেখা যাওয়া ঘূর্ণিবাতাসটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, টর্নেডো অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। টর্নেডোর মূল ঘূর্ণির সংস্পর্শে এলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু বাতাসে অনেক উঁচুতে উঠে যেতে পারে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কৌতূহলবশত কাছাকাছি অবস্থান না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর ঘটনা তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশেও অতীতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডোর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও অনুকূল আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।