সেতু নির্মাণের উদ্যোগে প্রস্তাবিত স্থানগুলো পরিদর্শনে সেতু সচিব মো. আবদুর রউফসহ অন্যরা © টিডিসি
ঝালকাঠি জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের উদ্যোগে প্রস্তাবিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে করে সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া ও সুতালড়ী এলাকা এবং ঝালকাঠি সদরের পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকাসহ তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখা হয়। এ সময় নদীর প্রস্থ, নৌযান চলাচলের উপযোগিতা, ভৌগোলিক অবস্থান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা এবং সেতু নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন সেতু সচিব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন এবং প্রাথমিক কারিগরি তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এরপর বিস্তারিত সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, ব্যয় নির্ধারণ এবং সরকারি অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, সুগন্ধা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির মধ্যে দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান হবে। এতে মানুষের চলাচল যেমন সহজ ও নিরাপদ হবে, তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। একই সঙ্গে শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নদীর দুই তীরের জনপদের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।