ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক © টিডিসি
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের দস্তিদার হাট ব্রিজ, বুড়ির দোকান ব্রিজ ও অলি আহমদ কলেজ এলাকার অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা শুরু করলে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভ্যানের সাহায্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া অংশ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বুড়ির দোকান এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেসরকারি চাকুরিজীবী আল আমিন বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আর আমার বাড়ি বান্দরবান পৌরসভার আর্মি পাড়ায় অবস্থিত। সেখানেও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই পরিবারের কাছে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য একাধিক গাড়ি পরিবর্তন করে হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।’
বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার ৩টি অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবানের কয়েকটা অংশে মহাসড়কের ওপর পাহাড় ধসে হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’