ক্ষতবিক্ষত গাইবান্ধার শহররক্ষা বাঁধ, ৫০ স্থানে গর্ত ও ধস

১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ PM , আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:০৭ PM
গাইবান্ধার শহর রক্ষা বাঁধের বেহাল দশা

গাইবান্ধার শহর রক্ষা বাঁধের বেহাল দশা © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

গাইবান্ধা শহরকে বন্যার পানি থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত শহররক্ষা বাঁধই এখন শহরবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের অন্তত ৫০টি স্থানে বড় বড় গর্ত ও ধস সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের এমন বেহাল দশা দেখে নতুন করে শঙ্কায় পড়েছেন ঘাঘট নদ তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। তাদের আশঙ্কা, নদীর পানি বাড়লেই ধসে পড়া অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে বন্যার পানি।

সরেজমিনে শহরের নতুন ব্রিজ থেকে পূর্ব কোমরনই কুঠিপাড়া পর্যন্ত বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, জায়গায় জায়গায় মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও বাঁধের ঢাল ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রক্ষাকবচ হিসেবে নির্মিত বাঁধটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তড়িঘড়ি করে বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও শুরু থেকেই কাজে ছিল নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটি ধসে নতুন নতুন গর্ত তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড নামমাত্র সংস্কার করে দায় সারে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। এতে প্রতি বছর সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।

ঘাঘট নদপাড়ের বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে বাঁধের অর্ধশতাধিক স্থানে ধস ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে এসব দুর্বল অংশ দিয়েই প্রথমে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। তখন পুরো শহর আবারও বন্যার কবলে পড়তে পারে।

তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর একই আশ্বাস শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত। দায়সারা সংস্কার নয়, তারা চান টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। কারণ বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদ ভয়ংকর রূপ নিলে এই দুর্বল বাঁধের ওপর ভরসা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”

কিন্তু শহরবাসীর প্রশ্ন, প্রতি বছর একই প্রতিশ্রুতি মিললেও কেন থামছে না ধস। কেন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও নিরাপদ নয় শহররক্ষা বাঁধ? ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি তারা। তাই বর্ষার পানির চাপ বাড়ার আগেই বাঁধটির গুণগত ও স্থায়ী সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধাবাসী।

শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে জিয়াউর রহমান ১৬ দিনে যা করেছিলে…
  • ১৯ জুন ২০২৬
ভাঙ্গুড়ায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জিম্মি …
  • ১৯ জুন ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের ওপর
  • ১৯ জুন ২০২৬
‘মাস্টারমাইন্ড অলওয়েজ অ্যা ব্যাড ওয়ার্ড’
  • ১৯ জুন ২০২৬
তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে মাঠে তিন মন্ত্রী
  • ১৯ জুন ২০২৬
রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরা বন্ধের তথ্য, যা বলছে ট্রাফিক কর্…
  • ১৯ জুন ২০২৬