বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ, বেড়া, পাবনা © টিডিসি
অফিস থেকে ছুটি না নিয়ে দপ্তর ফাঁকা রেখে ঢাকায় যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাপাউবো বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ পাবনার ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একটি মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে তারা দুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে বিশ্বস্ব সূত্রে জানা গেছে।
বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে দুই দিন ধরে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে। তবে পাউবোর কর্মকর্তা বলছেন, তারা মৌখিক ছুটি নিয়ে গেছেন।
যারা ঢাকায় গেছেন তারা হলেন বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব আতিক হোসেন, বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-৬-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব সুরুজ মন্ডল, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জনাব রাসেল ফকির ও বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জনাব তাওফিকুর রহমান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ মার্চ ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়। মামলা নম্বর সিআর-৩০৮/২০২৬ (তেজগাঁও)। এ মামলায় উল্লেখিত বেড়া পাউবোর ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকাজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের ১৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠান তদন্তকারী কর্মকর্তা। সেখানে হাজির হতে ১৫ জুন, মঙ্গলবার ঢাকায় যান উল্লেখিত ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অফিশিয়ালভাবে ছুটি না নিয়ে তারা ঢাকায় গেছেন। এমনকি তারা দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এতে বেড়া পাউবোতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সরেজমিনে বেড়া পাউবো অফিসে গিয়ে উল্লেখিত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে তাদের কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তবে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জনাব রাসেল ফকিরকে তার দপ্তরে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জনাব রাসেল ফকির বলেন, ‘আমি ১৫ জুন ঢাকায় ছিলাম, রাতে ফিরেছি।’ ছুটি নিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছি। যেহেতু আমাদের আদেশ এসেছে ঢাকায় হাজিরা দেওয়ার।’
বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-২-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব আতিক হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘অফিসের কাজে স্যারের সাথে নগরবাড়িতে আছি, পরে কথা বলব।’ নগরবাড়িতে কোথায় আছেন, সাক্ষাৎ করতে চাই-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নানা তালবাহানা করে সাক্ষাৎ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি কাজ শেষ করে পরে আপনার সাথে দেখা করব।’
বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি স্যারদের সাথে এক জায়গায় যাচ্ছি।’ কোথায় আছেন, সেখানেই যাচ্ছি বলেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো বসে নাই। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছি। বিকেলে এসে কথা বলি।’ আপনি ঢাকায় আছেন-প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম, রাতে ফিরেছি। মৌখিকভাবে স্যারদের জানিয়ে গিয়েছিলাম।’ তিনিও নানা রকম কথা বলে সাক্ষাৎ করতে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে পাউবো বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘অনেক সময় কোনো কর্মকর্তা কোনো কাজে যদি অফিসে আসতে না পারেন, তখন তিনি আমাদের কাছে মৌখিক অনুমতি চান। তখন আমরা তাকে সাধারণত মৌখিক অনুমতি দিই। পরে ছুটি অনুমোদন করে নেওয়া হয় ‘ তারা ৫ জন মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পাবনা পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, কর্মস্থলের বাইরে ঢাকায় যেতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে। সেটা মৌখিক হোক বা লিখিতভাবে। অনুমতি না নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে অনুমতি না নিয়ে যদি তারা ঢাকায় গিয়ে থাকে এমন অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।