ভালুকা উপজেলার মডেল মসজিদ © টিডিসি ফটো
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ ভবনের দেয়াল, প্লাস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে। উদ্বোধনের আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। তাদের দাবি, ফাটলগুলো সংস্কারের জন্য কয়েকটি স্থানে প্লাস্টার কেটে পুনরায় সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভালুকা মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ পর্যন্ত তিনবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে নাঈমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর দ্রুত সংস্কার কাজ চালিয়ে প্রকল্পটি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।
ফাটলের বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রশাসন সাত সদস্যের একটি হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিককে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
মসজিদ ভবনের কিছু স্থানে সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এ সময় তথ্য সংগ্রহে গেলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে আপত্তি জানান। এছাড়া প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও সেখানে দেখা যায়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাঈমা এন্টারপ্রাইজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় যাচাই করা হবে। সন্তোষজনক হলে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী গণমাধ্যমকে বলেন, মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু ত্রুটি থাকায় ঠিকাদারকে সেগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের কারনে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন শেষে দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হবে।