২২ হাজার টাকার গরু থেকে ৩৫ লাখ টাকার খামার © টিডিসি ফটো
অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সংসারে ছিল অনিশ্চয়তা। ছিল টানাপোড়েন। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই একদিন ধার-দেনা করে ২২ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তরুণ মোহাম্মদ সোহেল। সেই টাকা দিয়ে কিনেছিলেন একটি গরু। ছোট্ট সেই উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে সফল খামারির পরিচয়।
সোহেলের খামারের নাম ‘আমার স্বপ্ন গবাদি পশু খামার’। বর্তমানে তার এই খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি গরু। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে তার জীবন। বদলেছে পরিবারের আর্থিক অবস্থাও।
সোহেল জানান, ২০২০ সালের দিকে সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেই শুরু হয় তার সংগ্রাম। মানুষের কাছ থেকে ধার করে একটি গরু কেনেন তিনি। এরপর নিজের শ্রম আর যত্ন দিয়ে গরুটি লালন-পালন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খামারের পরিধি।
তিনি বলেন, শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। টাকার অভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়েছি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। ধীরে ধীরে গরু বাড়িয়েছি। এখন খামার থেকেই সংসার চলছে।
খামারের আয় দিয়েই এখন পরিবারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখছেন সোহেল। গরুর দুধ বিক্রি থেকেও নিয়মিত আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে তার খামারে এক থেকে দুইজন শ্রমিক কাজ করছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খামারে প্রস্তুত করা হয়েছিল ১২টি গরু। এরই মধ্যে ভালো দামে আটটি বিক্রি করেছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা খামারে আসছেন গরু দেখতে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম বলেন, সোহেলের সফলতা এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। চাকরির পেছনে না ছুটে ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে খামার করেও স্বাবলম্বী হওয়া যায়। তার খামারে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দু দাস বলেন, সোহেল এখন অনেকটাই সফল খামারি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু গরু বিক্রি করেছেন। আশা করছি খামারের বাকি গরুগুলোও ভালো দামে বিক্রি হবে।