গোপালগঞ্জে গরুর মাংস বিক্রিতে বাধার অভিযোগ, কসাইয়ের চিঠি ঘিরে তোলপাড়, কী বলছে পুলিশ

২৫ মে ২০২৬, ১০:৪১ PM
মুকসুদপুর থানা ও ভাইরাল হওয়া চিঠি

মুকসুদপুর থানা ও ভাইরাল হওয়া চিঠি © সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিতে বাধা ও কসাইকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আলমগীর কসাই নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু আলোচনা-সমালোচনা। তবে পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তা এ বাধার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন।

ভাইরাল হওয়া আবেদনে আলমগীর কসাই উল্লেখ করেন, তিনি মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষিণ জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের পাশে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন। তার অভিযোগ, গত ১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব সেখানে গিয়ে তাকে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করতে বলেন এবং এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে আলমগীর কসাই আগের মতো মাংস বিক্রি সচল রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আলমগীর কসাই দাবি করেন, জলিরপাড় ইউনিয়নের মুসলমানরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি আগের মতো মসজিদের পাশে গরুর মাংস বিক্রি চালিয়ে যেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে এ ধরনের কোনো কথাই বলিনি। মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান স্যারের নির্দেশনায় সেখানে গিয়েছিলাম। স্যার জানতে চেয়েছিলেন, জলিরপাড় এলাকায় অনেকদিন গরুর মাংস বিক্রি হয় না; এখন কে বিক্রি করছেন। সে বিষয়ে খোঁজ নিতে এবং ভবিষ্যতে মাংস বিক্রির আগে যেন আমার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। মূলত এই বিষয়টিই বলতে গিয়েছিলাম।’ এর বাইরে অন্য কোনো হুমকি বা আপত্তিকর কথা বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসাই আলমীগীর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত শুক্রবার থেকে আমার গরুর মাংস বিক্রি করা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসে আমাকে এখানে গরুর মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, এখানে গরুর মাংস বিক্রি চলবে না, কারণ এটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্দেশ। আমি যদি এখানে পুনরায় গরু জবাই করি, তবে আমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমাকে কোর্টে দাঁড় করানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি যে দোকানে ব্যবসা করি, সেটি মসজিদ কমিটির কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ঘর। আর মসজিদের পেছনেই গাং নদী, যার পাড়ে সম্পূর্ণ ধর্মীয় নিয়ম মেনে রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করে এনে আমি মসজিদের সামনে দোকানে মাংস বিক্রি করি। আমি তো কোনো হিন্দুর জায়গায় বা সীমানায় গিয়ে গরু জবাই করিনি।

আরও পড়ুন: কালশী বস্তিতে আগুন: কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট

কসাই বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান হিসেবে কোনো হিন্দুর বাড়িতে গিয়ে গরু জবাই করলে যেমন তারা মেনে নেবে না, তেমনি কোনো হিন্দু আমার সামনে এসে শুকরের মাংস বিক্রি করলে আমিও মেনে নেব না। কিন্তু আমার দোকান থেকে মাত্র দুই মিনিটের হাঁটা দূরত্বে যে ‘বউ বাজার’ (হিন্দুদের বাজার) রয়েছে, সেখানে তো শত শত মুসলমান যাচ্ছে এবং সেখানে শুকরের মাংসও বিক্রি হচ্ছে। আমরা তো মুসলিম হিসেবে কখনো সেখানে গিয়ে বাধা দিইনি। অথচ আমি যেখানে ব্যবসা করছি, প্রতি শুক্রবারে সেখানে ৭ থেকে ৮ মণের একটি গরু জবাই হয় এবং স্থানীয় মুসলমানরাই সেই মাংস কেনেন। এমনকি প্রায় ৩৭ জন হিন্দু ক্রেতাও নিয়মিত আমার কাছ থেকে গরুর মাংস কিনে নেন। এখানে হিন্দু-মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ নেই।’

আলমগীর বলেন, ‘আমি এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জমা দিয়েছি। ডিসি অফিস থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আমি প্রশাসনকে বলেছি যদি পুলিশ আমাকে আইনিভাবে বাধা না দিত, তবে একজন ফাঁড়ির ইনচার্জ বিরুদ্ধে আবেদন করার ক্ষমতা আমার ছিল না। কিন্তু যেহেতু আইনের লোক হয়ে আমাকে রুটি-রুজিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাই আমি ডিসি সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছি। এই পুলিশি আদেশের কারণে গত শুক্রবারে আমি কোনো গরু জবাই করতে পারিনি, আমার দোকান বন্ধ রয়েছে। তবে গতকাল এমপি মহোদয় কথা বলেছেন এবং তিনি বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি শুধু সত্যের ওপর টিকে থাকতে চাই।’

ঘটনার বিষয়ে মুকসুদপুর সার্কেলের এএসপি নাফিসুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুটা অবগত আছি। তবে অভিযোগকারী যেভাবে দাবি করছেন, প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি তেমন নয়। মুকসুদপুরের জলিরপাড় এলাকাটি মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) অধ্যুষিত অঞ্চল। ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে গরু জবাই করার নিয়ম ছিল না। অতি সম্প্রতি সেখানে নতুন করে এটি শুরু হয়।

যেহেতু ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষই হিন্দু সম্প্রদায়ের, তাই এই নতুন পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি অভিযোগ তোলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যে ফাঁড়ির ইনচার্জকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকান বা মাংস বিক্রি বন্ধ করার কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

যেহেতু স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, তাই একটি প্রশ্ন বা ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি) বিষয়টি অবগত আছেন। খুব দ্রুতই উভয় পক্ষকে সাথে নিয়ে একটি বৈঠকের মাধ্যমে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হবে।

শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনে আদেশ…
  • ০৭ জুলাই ২০২৬
স্পেন–পর্তুগাল মহারণে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে মিডফিল্ডের লড়াই
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
শেষ ষোলোতেই স্পেন–পর্তুগাল, ফিফার জন্যও কি দুঃসংবাদ?
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
অধিভুক্ত কলেজগুলোকে জরুরী নিদের্শনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
এটাই কি রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ?
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
টানা বর্ষণে খুঁটি হেলে পড়ায় চার উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence