আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী © সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এবার হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ৮ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) আইনজীবী সাফিনুর ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আর রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আবেদনে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে- নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ, যাতে সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন, তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এবং সারাদেশে অ্যান্টি-রেবিস টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আরও পড়ুন: ভাঙা আঙুল নিয়েই গোলবার সামলালেন মার্টিনেজ, ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ভিলার
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে অ্যান্টি-রেবিস টিকার সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই সব সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা, টিকার ঘাটতি ও চিকিৎসা অবহেলা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, টিকা সরবরাহে ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক সপ্তাহে পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মৃতদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-রেবিস টিকা ছিল না বললেই চলে। আক্রান্তদের অনেককেই দিনের পর দিন টিকা ছাড়াই ফিরতে হয়েছে।