গত ১৫ মে এই সড়ক ধসে পড়ে © সংগৃহীত
গাজীপুরের কাশিমপুরে তুরাগ নদের তীরে নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দিলেও, প্রায় দেড় মাস পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুনর্বহাল করা হয়।
গত সোমবার (১১ মে) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ।
জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরের একটি নির্মাণাধীন সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি বিশাল অংশ প্রায় ১৫ ফুট গভীরে দেবে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশনায় গত ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শন শেষে অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ওই দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে সময় প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
তবে সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। যদিও একই আদেশে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বহালের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের আবার কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের তদারকিতে তাদের অবহেলা ছিল। যার কারণে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।