পিতার স্বপ্ন পূরণে আপন পাঁচ বোন বেছে নিলেন একই পেশা

১৩ মে ২০২৬, ০৬:১৭ PM
একই পরিবারের পাঁচ বোন

একই পরিবারের পাঁচ বোন © টিডিসি ফটো

১২ মে বিশ্ব সেবিকা দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। তবে এবারের নার্স দিবসে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের এক পরিবারের পাঁচ বোনের সেবিকা হওয়ার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সেবার মানসিকতা আর পিতার স্বপ্ন পূরণে একই পরিবারের পাঁচ বোনই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নার্সিং।

জানা গেছে, মাইজঘোনা গ্রামের বাসিন্দা কালু সওদাগরের ১০ মেয়ে ও ২ ছেলে। কন্যারা সবাই উচ্চশিক্ষিত হয়ে স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। দুই ছেলের মধ্যে একজন ব্যবসায়ী এবং অন্যজন প্রবাসী।

পিতা কালু সওদাগরের স্বপ্ন ছিল তার কন্যারা মানুষের সেবা করবে। পিতার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ১০ বোনের মধ্যে একে একে পাঁচ কন্যাই ভর্তি হন নার্সিং পেশায়। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তারা আজ প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন হাসপাতালে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

পিতার স্বপ্নের সারথি এই পাঁচ বোন বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন।

পারেছা আক্তার সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল; সেতারা আক্তার রিমা সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রায়হান জান্নাত সিনিয়র স্টাফ নার্স, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ‘সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল’।

এছাড়াও নাজমীম সোলতানা সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজস্থলী, রাঙামাটি এবং শান্তা মারিয়া জয়নব বিএসসি ইন নার্সিং শেষ করে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পাঁচ বোনের একজন পারেছা আক্তার বলেন, ‘আজ যখন আমরা সাদা অ্যাপ্রন পরে, বুকে সেবিকার ব্যাজ লাগিয়ে একসাথে দাঁড়িয়েছি, তখন আমাদের মনে হচ্ছে আমরা বাবার স্বপ্ন সত্যি করতে পেরেছি। এই পেশা শুধু জীবিকা নয়, এটা আর্তমানবতার সেবা। বাবা তুমি যেখানেই আছো, দেখো তোমার পাঁচ মেয়ে এখন মানুষের সেবায় নিয়োজিত। আমাদের এই পথচলায় তোমাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা কাম্য।’

তাদের বড় বোন শিক্ষিকা মোশাররফা বেগম বলেন, ‘পিতা-মাতার স্বপ্ন যখন সন্তানদের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার চেয়ে আনন্দের আর কিছু থাকে না। আমার পাঁচ বোন আজ সেবিকা। মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে তোমরা পাশে দাঁড়াবে, সেবা করবে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তোমরা সফল হও, সেবার মাধ্যমে মানুষের দোয়া নাও, বাবার স্বপ্নকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দাও। অভিনন্দন আমার বোনেরা।’

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাদের সম্পর্কে জেনে খুবই আনন্দিত হয়েছি। তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। সেবার এই মহান পেশায় তাদের সফলতা কামনা করছি এবং তাদের গর্বিত পিতা-মাতার প্রতিও শুভকামনা রইল।

২৭ বছরের বিরতি দিয়ে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
নিরাপত্তা উদ্বেগে স্কোয়াডে নেই রোনালদো, শঙ্কায় এশিয়ান কাপ
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটের ভাড়া ছিল ১৪০ টাকা, একই জাহাজে কক্স…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
ফেসবুকে ‘ঢাকা দখলের’ ঘোষণা দিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
মিরসরাইয়ে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের সহকারীর
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬