সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পানিসম্পদমন্ত্রী © সংগৃহীত
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তারেক রহমান তারই সন্তান। তাই খাল খনন কর্মসূচিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। জনগণের স্বার্থে এটি একটি নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সুফল দেশের মানুষ ভোগ করবে।’
আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু খাল নয়, নদী খনন এবং নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজও আমাদের করতে হবে। পাশাপাশি সেচ ও কৃষি—এই দুটি প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এবং মেঘনা-ধনাগোদা প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ১৯৭৯ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল। এ প্রকল্পের সঙ্গে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জসহ মোট ছয়টি উপজেলা জড়িত রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটিকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে অধিক সুবিধা ভোগ করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ও পদ্মা নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরে অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন না লাগিয়ে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কাজ উদ্বোধন করতে আসবেন। এ কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
পরে জেলা প্রশাসক সকল সরকারি দপ্তরকে সর্বদা সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বিএডিসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এমপি এম এ হান্নান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহুরুল ইসলাম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনোয়ার উদ্দিন এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুন অর রশিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্লাহ সেলিমসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।