কাজ বন্ধ, ঠিকাদার-প্রকৌশলী উধাও—আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ PM
৪০টি কলাম নির্মাণের পরই থমকে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ

৪০টি কলাম নির্মাণের পরই থমকে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ © টিডিসি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মাত্র ৪০টি কলাম নির্মাণের পরই থমকে গেছে কাজ, আর ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগারির পোড়ারচর এলাকায় এই আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। মাত্র ছয় মাস কাজ হওয়ার পর অচলাবস্থা তৈরি হয়। ঠিকাদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী—কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাট করেই থেমে আছে কাজ। তিনতলা ভবন ও গবাদিপশুর জন্য একতলা বিল্ডিং নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কেবল গবাদিপশুর ভবনের ৪০টি কলাম দাঁড় করিয়েই থেমে গেছে সব। নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। মিক্সচার মেশিন, বাঁশ, ইটের খোয়া, শাটারের তক্তা—সবকিছুতেই জমেছে ধুলো ও মরিচা। শ্রমিকদের থাকার ঘরটি ভেঙে পড়েছে। টিউবওয়েলের গায়ে মরিচা ধরে গেছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার চিহ্ন প্রকট।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এন্তাজ আলী বলছেন, এই প্রকল্পে ১২ বিঘা খাসজমি তারা আবাদ করতেন। বন্যার আশ্রয়ের কথা ভেবে জমি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন জমিও নেই, আশ্রয়কেন্দ্রও হচ্ছে না। এক বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা হতো, সেই ফসল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বছরখানেক ধরে।

আরেক স্থানীয় ফজলু মিয়া বলেন, এখানে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ করেছেন তিনি ও আরও অনেকে। চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাওনা আছে তাদের। কিন্তু ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম ফোন ধরেন না, পিআইও মো. মশিউর রহমানকেও পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকাবাসী অসহায় হয়ে পড়েছেন।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, বন্যার সময় বানভাসিরা এখানে আশ্রয় নিতে না পারলে জমি দেওয়ার কী দরকার ছিল।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষাণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সময় বাড়ানোর কাজ চলছে। তিনি শ্রমিকদের পাওনা টাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি, বরং দাবি করেছেন, পাওনা থাকলে তা হেড মিস্ত্রির কাছে পাবেন শ্রমিকরা।

পিআইও মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। তাঁর দপ্তর ঘেটেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা জুড়ে তাকে খুঁজে পাওয়া এখন পূর্ণিমার চাঁদের মতো দুর্লভ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ। আগামী অ্যাকটিং মিটিংয়ে মেয়াদ বাড়ানো হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি অবশ্য দাবি করেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

উল্লেখ্য, সুন্দরগঞ্জের এই এলাকাটি বন্যাকবলিত। প্রতিবছর বন্যায় মানুষের গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ি ভাসে। এই আশ্রয়কেন্দ্র তাদের জন্য ছিল একমাত্র ভরসা। প্রকল্পটি আটকে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ বন্যায় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একমাত্র দাবি—অবিলম্বে কাজ শুরু করা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করা।

কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন যারা
  • ০৬ মে ২০২৬
ই-স্পোর্টস ‘বিশ্বকাপে’ খেলবে বাংলাদেশ
  • ০৬ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস এলাকায় পছন্দের দোকান বসাতে না পেরে ছাত্রদল নেতার…
  • ০৬ মে ২০২৬
শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন কবে, যা বলছে মাউশি
  • ০৬ মে ২০২৬
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দুইমাসের বেতনের চেক …
  • ০৬ মে ২০২৬
৯ বিয়ে করা মুফতী কাসেমী যেভাবে মাদানীর শ্বশুর হলেন
  • ০৬ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9