স্ক্যাবিসে একজন © টিডিসি
যশোরে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ ‘স্ক্যাবিস’ বা পাঁচড়া। গত তিন দিনে জেলায় ২৮৫ জনের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১২ জন ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ১৭৩ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তাদের ধারণা, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যবস্থাপত্রের জন্য চেম্বারে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সপরিবারে সবাই এই চর্মরোগে ভুগছেন। তবে রোগটি ছোঁয়াচে হলেও সঠিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেছেন চিকিৎসকরা।
চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গোলাম মোর্তুজা বলেন, স্ক্যাবিস মূলত ‘সারকোপটেস স্ক্যাবিয়াই’ নামে এক প্রকার ক্ষুদ্র মাইট বা জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। গত তিন দিনে তার ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে চিকিৎসা দিয়েছেন ১৭৩ জন। এ বাদেও যশোর শহরে আরও অনেক চিকিৎসক আছেন যাদের কাছ থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ ও রোগীদের কী করতে হবে সেজন্য পরামর্শ দিতে হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাচাদর, বালিশের কভার ও তোয়ালে প্রতিদিন গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে। যা ধোয়া সম্ভব নয়, তা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে অন্তত এক সপ্তাহ মুখ বন্ধ করে আলাদা রাখতে হবে।
পরিবারের একজনের স্ক্যাবিস হলে, উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, পরিবারের সকল সদস্যকে একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে। অন্যথায় একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। সাময়িক সুস্থ হলেও রোগটি বারবার ফিরে আসার আশংকা থাকে।
তিনি আরও বলেন, রোগীর নখ ছোট রাখতে হবে যাতে চুলকানোর সময় চামড়া না ছিলে যায়। চুলকানি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শরীরে ওষুধ (যেমন-পারমেথ্রিন ক্রিম) ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো শরীরে এটি লাগাতে হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং তার ব্যবহৃত কোনো জিনিস অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না বলে তিনি জানান।
অপর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসএম আসাদুল্লাহ জানিয়েছেন, স্ক্যাবিস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে লোকলজ্জা না করে চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, হাসপাতালে প্রতিনিয়ত স্ক্যাবিস আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ মে থেকে ৩ মে দুপুর পর্যন্ত যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১১২ জন বিভিন্ন বয়সের রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে নারী ৬৭ জন এবং পুরুষ ৪৫ জন। তবে এর বাইরেও আক্রান্ত রোগী আছেন, যারা হিসাবের বাইরে রয়েছেন। এজন্য তিনি আক্রান্তদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলার নির্দেশনা দিয়েছেন।