মেহেরপুরের লোডশেডিংয়ে নাকাল গ্রামাঞ্চল, বিপাকে কৃষক-শিক্ষার্থীরা

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৯ PM
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি © সংগৃহীত

মেহেরপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে গ্রামাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে মাত্র ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কৃষক ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম সংকটে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল উৎপাদনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে পড়াশোনায়ও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, চাহিদার ৫০ শতাংশও তারা পাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
 
গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল কিংবা দিন কিংবা রাত সমানতালে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সারা দিন কাজ করে মানুষ রাতে ঘুমাবে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমাতেও পারছেন। এ ছাড়া চলতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম বিপাকে। 

ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক মুসফিকুর রহমান বাবলু, হুমায়ুন কবির ও তাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে আমাদের মাঠে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অঞ্চলে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, বাকি ২২ ঘণ্টা লোডশেডিং। ৩ ঘণ্টা পরর ১০ মিনিট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ফলে কোনো জমিতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অল্প সময়ের মধ্যেও যদি সমাধান না হয়, তাহলে এই অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে।

‎স্থানীয় লোকজন বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়ে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারিভাবে আগের থেকে বাংলাদেশে জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা শুনেছি, বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে শত ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। ‎সেখানে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন যোগদান করার পর থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন।’

‎গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি জানান, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো সমস্যা নেই। গাংনী জোনাল অফিসে আগে যেসকল কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে করেছে। এর আগে গাংনী জোনাল অফিসে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিল বর্তমানে সরকারিভাবে তাই আছে। শফিউদ্দিন সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য এমন শুরু করেছে।

‎এ ব্যাপারে গাংনী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। আপনারা জিএম স্যারের সাথে কথা বলেন।’

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘বাংলাদেশে  বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি নেই। একটি গোষ্ঠী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছে, আমার গাংনী উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে। ‎আমি খোঁজখবর নেব কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। বিনা কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে বা  সরকারি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে (ডিজিএম) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‎এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। একটি গোষ্ঠী সংকট তৈরি করছে, এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।’

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, ‘গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলা চাহিদার ৫০ শতাংশও পাচ্ছি না। যার ফলে এভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আবাহাওয়া ঠাণ্ডা হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, তখন লোডশেডিং করা লাগে না।’

জানালার গ্রিল কেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান মালামাল চুরি
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ছক বা ফরম দেখুন এখানে
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
মাদকাসক্ত ছেলের হামলায় মা ও ভাই গুরুতর আহত
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
টিএসসি নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ ১৩ দাবি সেন্ট্রাল ইউন…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
ছাদ থেকে শুরু, এরপর সিঁড়ি হয়ে সর্বশেষ বেডরুম— এর মাঝেই ৪ হত…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
অবৈধ স্লিপার বাসের বৈধতা চেয়ে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে …
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬