রোদে হলুদ শুকাচ্ছেন দুজন © টিডিসি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পাহাড়ি ইউনিয়ন নাওগাঁও ও রাঙামাটিয়াসহ বাকতা, কালাদহ, এনায়েতপুর ইউনিয়নের লাল মাটিতে ৬৩০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি জাতের হলুদ আবাদ হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। দেখতে চিকন টকটকে হলুদ রঙের হলুদ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ীয়ার হলুদ। ফুলবাড়ীয়ার হলুদকে এবার জিআই স্বীকৃতির দাবি করেছে কৃষক। জিআই স্বীকৃতির জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ৪০ কোটি টাকার হলুদের বাজারের এ উপজেলা এখন সিদ্ধ হলুদের গন্ধে মাতোয়ারা।
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় লাগোয়া বিস্তৃত লালমাটির বনভূমির নাওগাঁও ও রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন। এ ছাড়া বাকতা, কালাদহ ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে অতি প্রাচীনকাল থেকে চিকন টকটকে হলুদ রঙের এক জাতের হলুদ আবাদ করে আসছে কৃষক। ওই হলুদকে স্থানীয়রা ফুলবাড়ীয়ার হলুদ বলে থাকেন। হাইব্রিড হলুদের চেয়ে ফুলবাড়ীয়ার হলুদের ফলন কম হলেও দাম বেশি পাওয়া যায় বলে হাইব্রিডের সঙ্গে স্থানীয় জাত ফুলবাড়ীয়ার হলুদও কৃষক আবাদ করে থাকে। তবে ফুলবাড়ীয়ার হলুদকে কৃষকরা নিজস্ব জাত বলে মনে করে থাকেন। এ ফুলবাড়ীয়ার হলুদ আবাদ হচ্ছে অতি প্রাচীনকাল থেকে।
সরেজমিনে পাহাড়ি জনপদ সন্তোষপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে লাল মাটি কোঁদাল দিয়ে খুঁড়ে দলে দলে কৃষক হলুদ উত্তোলন করছেন। কৃষকের সঙ্গে রয়েছেন একদল মহিলা শ্রমিক। তারা দিনচুক্তিতে ক্ষেত থেকে হলুদ উত্তোলন করে থাকেন।
হলুদ উত্তোলনকারী শ্রমিকরা বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় জাতের ফুলবাড়ীয়ার হলুদ ঢাকাসহ দেশের বড় বড় সব কটি শহরে বিক্রি হয়ে থাকে। যে রান্নাতে ফুলবাড়ীয়ার হলুদ ব্যবহার করা হলে আলাদা একটা ঘ্রাণ নাকে লাগে। রন্ধনশিল্পীরা তাদের পছন্দের তালিকায় রাখেন ফুলবাড়ীয়ার হলুদ।’
হলুদ চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘তিনি ৮ একর জমিতে হলুদের আবাদ করেছেন। তার ৪০০ মণ হলুদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ কাঠা জমিতে আবাদ করেছেন স্থানীয় জাতের ধানী ফুলবাড়ীয়ার হলুদ। ফুলবাড়ীয়ার হলুদ প্রতি কাঠা থেকে পাওয়া যায় ১৫ মণ কাঁচা হলুদ। সিদ্ধ করার পর শুকিয়ে যা তিন মন হয়। আমি দীর্ঘদিন ধরে হলুদ আবাদ করে আসছি। হাইব্রিড হলুদের চেয়ে ফুলবাড়ীয়ার হলুদের দাম এখনো মণ প্রতি বেশি টাকায় বেচাকেনা হয়। ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ীয়ার হলুদকে জিআই কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাই।’
সন্তোষপুর গ্রামের হলুদচাষি বিল্লাল হোসেন জানান, এবার ৫৪ শতাংশ জমিতে হলুদের আবাদ করেছেন। গতবার ৪২ মণ হলুদ হয়ছিল। এবারও ফলন ভালো হয়েছে।
একই গ্রামের আ. আজিজ জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে হলুদ সিদ্ধ করে খলায় (শুকানোর জায়গা) শুকিয়ে বিক্রি করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে তার খলা থেকে হলুদ কিনে নিয়ে যায়। গতবার তিন হাজার মণ শুকনা হলুদ বিক্রি করেছেন তিনি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘হাইব্রিড হলুদের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের চিকন ও টকটকে হলুদ রঙের এক জাতের হলুদ আবাদ করে থাকেন, যা ফুলবাড়ীয়ার হলুদ নামে খ্যাত। দেশের ফুলবাড়ীয়ার হলুদের সুনাম ছড়িয়ে আছে এর স্বাদ ও গন্ধের কারণে। আমরা ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ীয়ার হলুদকে জি আই কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। হলুদচাষিদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য প্রদর্শনী প্লট দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হলুদচাষিদের কৃষি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করছি।’