আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম © টিডিসি
পহেলা বৈশাখের তপ্ত দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর রেল স্টেশনে উদ্বোধন করা হলো আন্তঃনগর ট্রেনের নতুন যাত্রাবিরতি। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-বেনাপোল ও ঢাকা-খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন এখন থেকে মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। তিনি ঢাকা থেকে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে মুকসুদপুর স্টেশনে এসে নামেন এবং পরে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাবিরতির উদ্বোধন করেন।
সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘মুকসুদপুরবাসীর সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মাত্র দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আগামী দিনেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, মুকসুদপুরকে একটি আধুনিক, বসবাসযোগ্য ও সম্প্রীতির উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘মুকসুদপুরে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। শিগগিরই ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চালু হলে এ সুবিধা আরও বিস্তৃত হবে।’
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। রিশাতলা গ্রামের সাকিব হোসেন হৃদয় বলেন, নববর্ষের দিনে এই প্রাপ্তি আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, ‘আগে ট্রেনগুলো মুকসুদপুরে না থামায় আমরা ভোগান্তিতে পড়তাম। এখন কম খরচে নিরাপদ ভ্রমণ সম্ভব হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।’
শিক্ষার্থী স্যামুয়েল ডি রোজারিও বলেন, ‘ঢাকায় পড়াশোনা করা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অনেক বড় সুবিধা হয়ে এসেছে।’
উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুকসুদপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।