ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ভোটারা © টিডিসি
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত থাকা নির্বাচনে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। ভোটের মধ্যেই কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ চলছে এবং এখন পর্যন্ত মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ২৭.২ শতাংশ।
এদিকে নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জাল ভোট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বলেন, ‘এই আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচন যেহেতু নিরপেক্ষভাবে হচ্ছে, তাই একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ হবে বলে আমি আশাবাদী।’
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও প্রয়াত নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নির্বাচনী এলাকায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন আরও জানান, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি কক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিম, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।