জুলফিকার আলী জিন্নাহ © সংগৃহীত
সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে এনটিভির সাংবাদিক জুলফিকার আলী জিন্নাহকে পিটিয়ে অজ্ঞান করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় জমির মালিককে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনার বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা মোকসুদার রশিদের জমি রেজিস্ট্রির কাজে সহযোগিতা করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান সাংবাদিক জিন্নাহ। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে প্রচলিত একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’-এর বাইরে গিয়ে রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করায় স্থানীয় একটি চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সাংবাদিক জিন্নাহ অভিযোগ করেন, সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মহিবুল্লাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ রেজাউল হোসেন টুটুল ওরফে ‘গোল্ড টুটুল’-এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ আখ্যা দিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধর করা হয়। হামলায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন সুমন জানান, অফিসের ভেতর মহিবুল্লাহ, গোল্ড টুটুল, তার ছেলে শিহাব, সাইফুল ও মামুনসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সাংবাদিক জিন্নাহকে ব্যাপক মারধর করে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক মোকসুদার রশিদ বলেন, আমি আমার বৈধ জমি রেজিস্ট্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে, যারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখে। তাদের নির্ধারিত লোক বা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাজ করতে গেলেই তারা বাধা দেয়। আমি সেই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কাজ করতে চাওয়ায় সাংবাদিক জিন্নাহ ভাই আমাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মহিবুল্লাহ ও গোল্ড টুটুলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সাংবাদিক জিন্নাহ ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে এবং আমাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখে। আমি এই হামলার বিচার চাই এবং আমার জানমালের নিরাপত্তা চাই।
অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার দাবি, একজন বিদেশি নাগরিকের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি নিয়ে ‘ধাক্কাধাক্কি’ হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু বলেন, জমি রেজিস্ট্রিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্যের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।