পটুয়াখালীর গলাচিপা
স্মারকলিপি দিচ্ছেন ছাত্রদলের নেতারা © টিডিসি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলায় ছাত্রদল নেতা নিবিড় মাহমুদের মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠি সূত্রে তদন্ত কমিটি গঠন করার বিষয়টি জানা যায়।
চিঠিতে বলা হয়, গত সোমবার (৯ মার্চ) গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় মাহমুদের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তোলেন তার বাবা মজিবুর গাজী। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অভিযোগ তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শেখ শহিদুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. গোলাম মোস্তাহিদ তাসরিফ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহপূর্বক চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এদিকে চিকিৎসকের অবহেলায় নিবিড় মাহমুদের মৃত্যুর অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বরাবর এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিটি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ, ছাত্রদল নেতা জাফর আল নোমান, আহসান ইমরান, নিশাত আহম্মেদসহ অন্যরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রাঙ্গাবালী উপজেলার এক মেধাবী ছাত্রনেতা নিবিড় মাহমুদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক সেবা হিসেবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, চিকিৎসকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মান তদারকি, হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং টেস্ট বাণিজ্য বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি তোলা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বুধবার মানববন্ধনের কর্মসূচি থাকলেও হাসাপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের আশ্বাসে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় ছাত্রদল নেতা নিবিড় মাহমুদের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান তারা।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে সহকারী সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন জরুরি বৈঠকে পটুয়াখালী থাকায় তিনি স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন। স্মারকলিপিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
গত ৯ মার্চ সকালে জ্বর ও ডায়েরিয়া নিয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় নিবিড় মাহমুদকে। ডা. নোমান পারভেজ নিবিড়ের চিকিৎসা প্রদান করেন। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নিবিড়ের। তার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তোলে বাবা মজিবুর গাজী। স্বজনরা দাবি করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। সময়মত সঠিক চিকিৎসা, পরামর্শ কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার করা হলে হয়তো এ ঘটনা এড়ানো যেত। বাবা মজিবুর গাজী বলেন, ‘রবিবার সকালে আমার ছেলের জ্বর ওঠে। রাতে ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়। সোমবার সকালে তাকে গলাচিপা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং সকাল ৯টার দিকে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার নোমান পারভেজ প্রথমে বলেন সমস্যা নেই চিকিৎসা চলবে। কিন্তু মৃত্যুর ১০-১৫ মিনিট আগে আমার স্বাক্ষর নিয়ে বলেন পটুয়াখালী নিয়ে যেতে। ততক্ষণে আমার ছেলে মারা গেছে।’