নেত্রকোনা-২ আসনে জমে উঠেছে প্রবীণ-নবীনের লড়াই

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৩ PM
ডা. মো. আনোয়ারুল হক ও ফাহিম রহমান খান পাঠান

ডা. মো. আনোয়ারুল হক ও ফাহিম রহমান খান পাঠান © সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ নম্বর নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা) আসনে জমে উঠেছে নবীন প্রবীণের নির্বাচনী লড়াই। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীর সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের লড়াইকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।  

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১২ জন। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মো. আনোয়ারুল হক। জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে আব্দুর রহিম রুহী এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের মধ্যে।

জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ডা. আনোয়ারুল হক সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ২০১২ সালে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয় দলের দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একাধিক মামলার ভুক্তভোগী হন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকেই ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এই আসনে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। 
অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ।

তিনি গণ অধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। আওয়ামী সরকার পতনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও জামায়াত জোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে এবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। স্বাধীনতার পর নেত্রকোনা-২ আসন থেকে বিএনপি মোট দুবার নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবার বিএনপির হয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবু আব্বাস। পরে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল মমিন মৃত্যুবরণ করলে ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় এই আসনে জয় পান আবু আব্বাস।

এবার নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেক ভোটার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত থেকে কাজ করা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে ডা. আনোয়ারুল হক এগিয়ে রয়েছেন। 

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াত জোটের শরিক দল থেকে তুলনামূলক নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আবার তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তরুণ প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে নেত্রকোনা-২ আসনে প্রবীণ অভিজ্ঞতা না তরুণ নেতৃত্ব—কার প্রতি ভোটাররা আস্থা রাখবেন, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় সিএনজি চালকসহ দুই বন্ধু নিহত
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েল ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পকে ‘ভুল পথে পরিচালিত …
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নেবে শিক্ষক-প্রদর্শ…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
জুলাই গণ-আন্দোলন: ন্যারেটিভ, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় বৈধতা
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল পর হাতিয়ার ইউএনওকে ওএসডি
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
‘শক্তিশালী’ ইহুদি লবির চাপে ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence