অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে © টিডিসি
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত এক্সপার্ট ভিলেজ লিমিটেডের দুইটি কারখানায় টানা তৃতীয় দিনের মতো শতাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে আবারও একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত কারখানার শ্রমিকরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমে তাদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ শ্রমিকদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, দুর্বলতা ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কয়েক দফা চাপ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা রোববার সারাদিন কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন। একই দাবিতে সোমবার সকালে কাজে যোগ দিলেও পুনরায় আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মধ্যেই হঠাৎ একে একে শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা শুরু হয়। পরবর্তী দুই দিনেও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিক আশঙ্কামুক্ত থাকলেও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।’
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অ্যাডমিন ম্যানেজার সুজন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
ঘটনার পর কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে টানা তিন দিনের একই ধরনের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে এখনও ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।