দিন বাড়াতে কৃত্রিম আলো

শার্শায় ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে বিপ্লব

১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২০ PM , আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫২ PM
শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনিরের ড্রগনবাগান

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনিরের ড্রগনবাগান © টিডিসি

অমৌসুমে ফলন কমে যাওয়ার চিরাচরিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যশোরের শার্শায় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ড্রাগন চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন এক তরুণ কৃষক। আধুনিক ‘লাইট ইনডোর্স’ প্রযুক্তিতে রাতকে দিন বানিয়ে তিনি যেমন তিন গুণ ফলন পাচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে যোগ করছেন ভিন্নমাত্রার আশাবাদ।

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনির এই নতুন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগকারী হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ বিঘায়। এর মধ্যে শীতকালীন অমৌসুমে উৎপাদন নিশ্চিত করতে ২০ বিঘা জমিতে চালু করা হয়েছে লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা।

শীতকালে রাত বড় ও দিন ছোট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফলন কমে যায়। এ সমস্যার সমাধানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার করে রাতে দিনের মতো আলোক পরিবেশ তৈরি করছেন চাষি মনির। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ড্রাগন বাগানজুড়ে আলো জ্বলে ওঠে, যা একদিকে যেমন গাছের ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে চোখধাঁধানো এক নান্দনিক দৃশ্য।

বাগানে প্রতিরাতে দুই দফায় লাইটিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয় প্রথম দফা সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা রাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। এতে গাছ প্রয়োজনীয় আলোর ঘাটতি পূরণ করতে পারছে এবং অমৌসুমেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুল ও ফল ধরছে।

আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগনবাগান এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রই নয়, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগনগাছে আলোর ঝলকানি বসতপুর এলাকার প্রান্তরে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিচ্ছে। অনেক দর্শনার্থীর মতে, এই দৃশ্য ইউরোপের উন্নত শহর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক কৃষি খামারের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এই বাগান দেখতে ভিড় করছেন।

উপজেলা কৃষি কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

তবে এই আধুনিক পদ্ধতির বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যয়। চাষি মনিরুজ্জামানের ভাষ্যমতে, ২০ বিঘা জমিতে লাইটিং সিস্টেম চালাতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, যার বেশির ভাগই বিদ্যুৎ বিল।

তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করে আরও বলেন, বিদ্যুৎ খরচ যদি বাণিজ্যিক খাত না হয়ে, কৃষি খাতের আওতায় বিশেষ সুবিধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তাহলে আরও অনেক কৃষক এই প্রযুক্তিতে আগ্রহী হতেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিত সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া গেলে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ শার্শাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অমৌসুমে ফল উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির ৫ বিদ্রোহী নেতা
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ জেলায় শীত নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিকের প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি নিয়ে শিবিরের বিবৃতি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিবিরের সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার র…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
জাবিতে আসছেন মিজানুর রহমান আজহারী
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
পাবনায় সামছুল হুদা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অ…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9