স্কুলে যাওয়ার পথ বন্ধ, গাছতলায় পাঠদান

১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৫ PM
গাছের নিচে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষক (বৃত্ত চিহ্নিত অংশে স্কুলে যাওয়ার রাস্তা এভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়)

গাছের নিচে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষক (বৃত্ত চিহ্নিত অংশে স্কুলে যাওয়ার রাস্তা এভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়) © টিডিসি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াত পথ দখলে যাওয়ায় পড়ালেখা থেমে নেই—থেমে গেছে শুধু শ্রেণিকক্ষ। পাঁচ বছর ধরে পথহীনতার ভোগান্তি সহ্য করতে না পেরে শিক্ষকরা শেষ পর্যন্ত গাছতলায় ক্লাস নিতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্কুলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব।

চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা গ্রামের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক ও ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ওয়াপদা খালের বাঁধ ছিল বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা এই পথ দিয়েই যাতায়াত করতেন।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় ক্লাস চলছে। যে পথ দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেত, সেখানে এখন বসতি স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম বলেন, ‘১৯৮৮ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে আমরা চারজন শিক্ষক পাঠদান শুরু করি। পরে বিদ্যালয়টি রেজি:প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে চালু থাকে এবং ২০১৩ সালে সরকারি করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল ওয়াবদা খালের বাঁধ, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ।’

জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী বিদ্যালয়ের জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেন। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল ৩১৩৫ ও ৩১৩৬ দাগের ওপর দিয়ে যাওয়া বাঁধ। এর মধ্যে ৩১৩৬ দাগ ছিল সরকারি খাসজমি।

২০১৬ সালে অষ্টমীর চরের জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ৩১৩৬ দাগে ১৫ শতাংশ এবং ৩১৩৭ দাগে ২১ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার শ্যালক কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ইউএনও মো. মাইদুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে বন্দোবস্তকৃত জমির বাইরে আরও উত্তরের ৩১৩৫ দাগও দখলে নেন এবং সেখানে বসতি গড়ে তোলেন। ফলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন ও সুম্মা খাতুন বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় পাশের দুটি বাড়ির ভেতর দিয়ে যেতে হয়। বাড়ির পাশে বড় গর্ত, বর্ষায় পানি ভরে যায়। ছোটরা ভয় পেয়ে অনেক সময় স্কুলেই আসতে পারে না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রিয়াদ বিন রানু বলেন, ‘স্বাভাবিক যাতায়াতপথ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় পাঠদান করছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রাস্তা বন্ধ করিনি। রাস্তার জন্য বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, ‘সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পথ বন্ধ করা চরম ধৃষ্টতা। রাস্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমিও হিংসার শিকার হয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, ‘স্কুলের রাস্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরেজমিন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, খুব শিগগির স্কুলের জন্য বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।’

বেরোবিতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি
  • ২১ মে ২০২৬
ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে ভেড়ানোর দ্বারপ্রান্তে মেসির মায়ামি
  • ২১ মে ২০২৬
কুষ্টিয়া কর অঞ্চলে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ১২২, আবেদন ৩ জু…
  • ২১ মে ২০২৬
যশোরে চামড়া সংরক্ষণে বরাদ্দ ১৬৫ টন লবণ
  • ২১ মে ২০২৬
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা থেকে লিখিত বাদ দেওয়ার প্রস্তাব
  • ২১ মে ২০২৬
সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খেলে মিলবে যেসব উপকার
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081