জুলাই অভ্যুত্থানে আহত গাজী সালাউদ্দিন মারা গেছেন

২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৫ AM
গাজী সালাউদ্দীন

গাজী সালাউদ্দীন © সংগৃহীত

নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের অধিবাসী গাজী সালাউদ্দীন। পেশায় শিক্ষক। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যখন নির্বিচারে ছাত্রদের হত্যা করা হচ্ছিল, তখন তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যুক্ত হন। আন্দোলন চলাকালে স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হন। সে সময়ে বেঁচে ফিরলেও গলায় বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারের কারণে অবশেষে হার মানলেন জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দীন।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এ জুলাই যোদ্ধা জেলার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে সোমবার সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাজার এলাকায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুর তথ্যটি এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। তার পোস্টটি শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে মীর স্নিগ্ধ বলেন, ‘জুলাই শহীদের তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম। এই তালিকা কবে থামবে—কেউ জানে না। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

তিনি জানান, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, গাজী সালাউদ্দীন ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। নারায়ণগঞ্জের এই আহত যোদ্ধা এক চোখ হারিয়েছিলেন গুলিতে। শরীরের আরো কয়েক স্থানে ছিল একাধিক স্প্লিন্টার। তার গলায় আটকে থাকা একটি স্প্লিন্টার, যা অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেই থেকেই সৃষ্ট শ্বাসকষ্টে তিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।’

নিহত সালাউদ্দিনের স্বজনেরা জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় চোখসহ শরীরের আরও কয়েকটি স্থানে গুলির স্পিøন্টার বিঁধে তার। একটি বিঁধে গলায়। গলায় আটকে থাকা এই স্প্লিন্টার অপসারণ করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, সেই স্প্লিন্টার থেকেই সৃষ্ট শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি মারা গেলেন।

গাজী সালাউদ্দীনের ছেলে রাতুল বলেন, আমার বাবা সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি ছিলেন। ওনি দেশের জন্য জীবন দিলেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। আন্দোলনে স্প্লিন্টারের আঘাতে তার ডান চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তিও আংশিক ক্ষীণ হয়ে পড়ে। চোখ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো তো দূরের কথা, তার চলাচলই ছিল কষ্টসাধ্য। দীর্ঘদিন বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। পরবর্তীতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জে তার এলাকায় তাকে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, গাজী সালাউদ্দীন সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন। অল্প কিছুদিন আগেই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় তাকে একটি মুদি দোকান দেওয়া হয়েছিল—জীবনটা নতুনভাবে শুরু করার আশায়। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা তাকে হুমকিও দিয়েছে। লড়াই করেছেন তিনি।

সূত্র : বাসস

চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক এক এমপি মারা গেছেন
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার পুলিশের
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
রান্নাঘরে পাশাপাশি ওড়নায় ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ, অতঃপর...
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
চা বিক্রেতা নানী-নাতনী’র কাছে ‘ঈদ উপহার’ পাঠালেন প্রধানমন্ত…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের আকস্মিকভাবে পরিবর্তন 'অত্যন্ত …
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence