বিদ্যালয়ের মাঠে জমা থাকা পানিতে হাঁসের দল © টিডিসি
একসময় যেখানে শিক্ষার্থীদের কোলাহল, দৌড়ঝাঁপ আর জাতীয় সংগীতের সুর ভেসে আসত, সেই মাঠ এখন হাঁসের জলকেলির আস্তানা। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠ বছরের অর্ধেক সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে খেলাধুলা, সমাবেশ থেকে শুরু করে সহশিক্ষা কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা।
বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার জমি এবং শহীদ আব্দুল জব্বার সড়ক তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় মাঠে পানি জমে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। সঠিক পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকাল এলেই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। মাঠজুড়ে হাঁসের দল ভেসে বেড়ায়, আর ছাত্রছাত্রীরা জানালা দিয়ে সেই দৃশ্য দেখে কাটিয়ে দেয় তাদের ক্লাসের সময়।
অভিভাবকরা বলেন, কিন্তু মাঠের যে অবস্থা, তাতে সে স্কুলে খেলাধুলার কথা কল্পনাই করতে পারে না। অন্য স্কুলের বাচ্চারা যেখানে খেলছে, সেখানে আমাদের সন্তানেরা ক্লাসরুমে বন্দি হয়ে আছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণালী আক্তার জানায়, ছয় মাস তো মাঠে পানি। বাকি সময়ও কাদায় ভরা থাকে। আমরা খেলতে পারি না, সমাবেশ করতে পারি না, হাঁটতেও কষ্ট হয়। এতে ভালো লাগার পড়াশোনাটাও বিরক্তিকর হয়ে যায়।
খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলাধুলার অতীত ইতিহাসও বেশ গৌরবজনক। ২০১৭ সালে আন্তঃজেলা স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্কুলটির মেয়েরা কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয় দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলায় অংশ নিয়েছিল। অথচ আজ সেই শিক্ষার্থীরাই মাঠে পা রাখতে পারে না।
অন্যদিকে জলাবদ্ধ পানি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হওয়ায় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, মাঠের পানি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ায় পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না, কারণ মশার কামড় ও গন্ধযুক্ত পানিতে ক্লাসরুম দখল হয়ে যাচ্ছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা সরকার জানায়, কখনো ক্লাস করতে করতে হঠাৎ পানি এসে ঢুকে পড়ে। আবার কখনো মশার কামড়ে বসে থাকা দায় হয়ে যায়। এতে পড়ায় মন বসে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরে বহুবার আবেদন জানিয়েছে। এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা।]
উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের স্কুলে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। অনেকে দূরদূরান্ত থেকে সাইকেল চালিয়ে আসে। কিন্তু মাঠের এই করুণ অবস্থা তাদের স্বাভাবিক চলাচল পর্যন্ত বিঘ্নিত করছে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।’
তিনি আরও জানান, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শারীরিক শিক্ষা ক্লাস, জাতীয় দিবস উদ্যাপনসহ প্রায় সব অনুষ্ঠানই গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।’