খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হাজারো পরিবার, জনভোগান্তি চরমে

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০৮ PM
খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে

খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে © টিডিসি

খাগড়াছড়িতে ভোররাতে প্রায় ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ভোররাত থেকেই চেঙ্গী নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে পানি উপচে পড়ে জেলা সদরসহ আশপাশের নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় হাজারেরও বেশি পরিবার। হঠাৎ বন্যার কবলে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ।

সকালের দিকে চেঙ্গী নদীর পানি ঢুকে পড়ে সদর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, বটতলি পাড়া, রাজ্যমনি পাড়া, মেহেদীবাগ, মুসলিম পাড়া, শব্দমিয়া পাড়া ও কালাডেবাসহ একাধিক এলাকায়। হঠাৎ পানির তোড়ে অনেকের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, ডুবে যায় চলাচলের রাস্তা। বেলা ১১টা পর্যন্ত পানি বেড়ে গেলেও দুপুরের পর থেকে ধীরগতিতে নামতে শুরু করে। তবে তপ্ত রোদেও নদীর পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় অবাক হয়েছে অনেক পরিবার।

স্থানীয়রা জানান,আকস্মিক বন্যায় তারা প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। ফলে পানিবন্দি থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন শিশুসহ বৃদ্ধরা। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে অনেক ফসলি জমি। আমন মৌসুমের ধান পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে হতাশা। তারা জানান, বছরের একমাত্র ফসল নষ্ট হলে পরিবার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়বে।

খাগড়াছড়ির পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, আকস্মিক বন্যায় পৌর এলাকায় শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, আবার অনেকের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বন্যা যেহেতু আকস্মিকভাবে হয়েছে, জেলা শহরে বৃষ্টি না থাকলেও উজানের পানিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পরবর্তীতে সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, পানিবন্দি পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দি পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অচেনা ভোরের বন্যা খাগড়াছড়িবাসীর জীবনে নতুন দুশ্চিন্তা বয়ে এনেছে। অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ফসল হারানোর শঙ্কায় কৃষকরা উৎকণ্ঠিত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সহযোগিতার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন আকস্মিক বন্যায় ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

‘হ্যান্ড অব গডের’ ৪ মিনিটের মাথায় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ কর…
  • ২৬ মে ২০২৬
আয়োজক শহরের বাইরেও বিশ্বকাপ উন্মাদনা, চূড়ান্ত রেকর্ড ৪৮ বেস…
  • ২৬ মে ২০২৬
মোবাইল ছাড়া সুস্থ ঈদ কাটানোর নির্দেশনা রাঙ্গামাটি আইটি স্কু…
  • ২৬ মে ২০২৬
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে পরিকল্পনার কথা জা…
  • ২৬ মে ২০২৬
রোনালদোকে অসম্মান করলেন মাইকেল অলিসে
  • ২৬ মে ২০২৬
স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণের পোস্ট-ভিডিও ভাইরাল, গুজব বলে …
  • ২৬ মে ২০২৬