রাজ্জাকের ঝাল পুরির দোকান © টিডিসি
যশোরে ধর্মতলার জনপ্রিয় একটি খাবার ‘রাজ্জাকের ঝাল পুরি’। ধর্মতলা থেকে ছুটিপুর রোডের ট্রেন ক্রসিং পার হলে রাজ্জাকের পুরির দোকান। এ দোকানে গেলেই মেলে শুকনো মরিচের সাথে ঝাল পুরি।
রাজ্জাকের পুরি কিনতে বেশ খানেকটা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। ছোট ছোট পুরি পেতে বা খেতে বিকেলের পর থেকেই ছোট দোকানটির সামনে জটলা তৈরি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনতে হয় খাবারটি। জনপ্রিয় এই ঝাল পুরির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি আকারে ছোট ও কুড়মুড়ে। পুরির উপরে তেলে ভাজা শুকনো মরিচ ছিটিয়ে দেয়া হয়। আর সাথে থাকে কাঁচা পেঁয়াজ। প্রতিদিন গড়ে এখানে আড়াই হাজার পিস পুরি বিক্রি হয়। এ পুরি বিক্রি করা হয় দুই টাকা করে। আর সাথে থাকে তিন টাকা মূল্যে ডালের বড়া। যা প্রতিদিন ৫শ’ পিস ভাজা হয়।
আরবপুর ইউনিয়নের খড়কি এলাকার ইউপি সদস্য মহাসিন হোসেন। বিকেল হলে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রায়ই রাজ্জাকের পুরি নিয়ে যান তিনি। লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় তিনি বলেন, এই পুরি এখন যশোরে জনপ্রিয় একটি খাবার। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। দিয়ে তো পারে না। কেউ ১০টা, কেউ ৩০টা, কেউ ৫০টা পর্যন্ত অর্ডার করছে। আকারে ছোট হলেও পুরিটা বেশ স্বাদের। পুরির সঙ্গে ছিটানো তেলে ভাজা শুকনো ঝাল, পেঁয়াজকুচি থাকে; এতে স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
রায়হান খান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, একটু সময় পেলেই বন্ধুদের সাথে নিয়ে এ পুরি খেতে আসি। শুকনো মরিচ গুড়ো ও কাচা পেঁয়াজের কম্বিনেশন দারুন এক স্বাদ এনে দেয় এ পুরি। যে এক বার খায়; সে বারে বার খেতে চায়।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনে বেশ বড় জটলা। দোকানে রাজ্জাক ও তার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী ভীষণ ব্যস্ত ক্রেতাদের সামলাতে। স্ত্রী (রাজ্জাকের স্ত্রী) বটিতে পেঁয়াজ কুচি করছে। রাজ্জাক ও তার মেয়ে দুজন মেশিনের মতো হাত চালিয়ে পুরি বেলছেন। সামনের কাঠে চুলায় গরম তেলে সেই পুরি ফেলছেন। পুরি ভাজা শেষ হলে সাথে সাথে তা কেটে শুকনো মরিচ গুড়ো ও পেয়াজ ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করছেন ক্রেতাদের।
এ বিষয়ে রাজ্জাক হোসেন বলেন, ২০১২ সাল থেকে পুরি বিক্রি শুরু করি। প্রথম দিকে এক টাকা করে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখনও বাজারে সব কিছুর দাম বেশি হওয়ায় পুরি এখন দুই টাকা করে বিক্রি করি। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ পুরি বিক্রি করি। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে এখানে আড়াই হাজার পুরি বিক্রি হয়। আর সাথে থাকে তিন টাকা পিচের ডালের বড়া।