আহত কয়েকজন © টিডিসি সম্পাদিত
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নওগাঁর মহাদেবপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, দাউল বারবাকপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান (৭৮), জহুরা বেগম (৪৫), শাহিনা আক্তার (৪২), সারাব হোসেন (২২) এবং শাহাজাহান আলী। এর মধ্যে সারাব হোসেন ও জহুরা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার পর ১৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩২) আটক করেছে থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার দাউল রারবাকপুর গ্রামের আজাহারুল ইসলামের ছেলে। এছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন- জাহিদ হোসেন ফেকু (৩৮), আব্দুস সামাদ, ওয়াহেদ আলী, শামসুল আলম (৫২), রোম্মান হোসেন, সারোয়ার হোসেন নান্টু (৫৫), আজাহার আলী, ওবাইদুল হক (৪৮), সিজার হোসেন (২৫), আবু সাইদ (৩৫), নাসরিন বেগম, রেখা বানু ও দেলোয়ারা।
এজহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার দাউল বারবাকপুর গ্রামে শরিকান জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে রবিবার বিকেলে মহাদেবপুর ইউপির বারবাকপুর গ্রামস্থ বারবাকপুর মন্ডলবাড়ি জামে মসজিদের সামনে আবদুল মান্নানের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এসময় পরিবারের সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ তাদের ওপরও হামলা চালায়।
এজহারে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় গুরুতর আহত জহুরা বেগম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষ এলোপাতাড়িভাবে কোপালে তার বাম পায়ের হাটুর নিচে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং এসময় পায়ের তালুতেও লেগে কেটে রক্তাক্ত জখম করে। তাছাড়া গুরুতর আহত আরেকজন সারাব হোসেন এগিয়ে আসলেও আসামিদের একজন হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় কোপ দিলে মাথার মাঝখানে কেটে যায় এবং গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আরেকটি কোপ দিলে মাথার বাম পাশে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
আসামির হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা আবদুল মান্নানকে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে এবং এর ফলে তার বাম পায়ে হাটুর নিচে কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং পায়ের তালুতে লাগলে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আবদুল মান্নানেন ছেলে মো. রাজীব হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। সর্বশেষ ডিবি থেকে তদন্তে আসলে আমাদের প্রতিপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিল এবং রবিবার আমার বাবা আসরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হলে তারা হামলা করে। এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে পরিবারের কয়েকজনের ওপরও হামলা করা হয়। বর্তমানে দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হামলার ঘটনায় মামলা প্রস্তুত হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি শাহিন শাহান সোহেলকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।