মহামারি করোনায় সৃষ্ট ঝড়ে এশিয়ায় ৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও তরুণ সমাজ।
এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এ বছর বেকারত্বের হার বেড়ে ৫.২ শতাংশ থেকে ৫.৭ শতাংশ হতে পারে। গত বছর যেটি ৪.৪ শতাংশ ছিল।
গত মঙ্গলবার আইএলও প্রকাশিত ‘এশিয়া প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক ২০২০: নেভিগেটিং দ্য ক্রাইসিস টুওয়ার্ডস আ হিউম্যান-সেন্টার্ড ফিউচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
আইএলও জানিয়েছে, পুরুষের চেয়েও নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশি। কারণ, তাঁরাই বেশি চাকরি হারিয়েছেন। এ ছাড়া তরুণেরা চাকরি হারিয়েছেন বা কর্মঘণ্টা কমার কারণে কমেছে বেতনও। চাকরিহারা তরুণের সংখ্যা ৩ থেকে ১৮ গুণ পর্যন্ত বেশি আগের বছরের তুলনায়। এসব কারণে সার্বিকভাবে শ্রমিকদের আয় কমেছে ১০ শতাংশ।
আইএলওর সহকারী মহাপরিচালক এবং এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক চিহোকো আসাদা মিয়াকাওয়া বলেন, এই অঞ্চলের শ্রমবাজারে ভয়াবহভাবে আঘাত হেনেছে কোভিড-১৯। কয়েকটি দেশের সরকার করোনা মহামারি ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারলেও অনেক দেশই সামাজিক নিরাপত্তা ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে খুব একটা সহায়তা করতে পারেনি। ফলে, শ্রমিকেরাও কাজে ফিরতে পারেননি।
এই প্রতিবেদনে অন্যান্য কর্মী বা শ্রমিকের তুলনায় যুবক ও নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে কাজ হারানোর স্পষ্ট চিত্র দেখানো হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ কর্মীদের জন্য নতুন চাকরির প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। যখন তাঁরা নতুন চাকরির সন্ধান করবেন বা করছেন, এমনও হতে পারে যে তাঁদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তা মিলবে না। কয়েক লাখ নারীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।