বাঁচার লড়াইয়ে তরুণদেরও পেশা বদল

© প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তাসনিম জেরিন। দুই বোন আর এক ভাইয়ের ছোট্ট পরিবার ভাড়া বাসায় থাকেন নগরীর আগ্রাবাদে। বাবাকে হারিয়েছেন কিছুদিন হল। তারপর থেকে জেরিনের স্বপ্ন মাস্টার্স শেষ করে আবেদন করবেন চাকরির বাজারে। ফলে একটা চাকরি পেলে কিছুটা হলেও সচল হবে তার পরিবারের অর্থের চাকা। তবে তার সেই রঙিন স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়েছে অদেখা এক করোনায়। থেমে গেছে তার পড়ালেখার স্বাভাবিক গতি।

তিনি জানান, আগে টিউশন করে নিজের খরচ নিজে চালাতাম। কিন্তু হঠাৎ করোনা আসায় সব টিউশন চলে যায়। এছাড়া দু-একটি পরীক্ষার জন্য আটকে আছে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা। অনুষ্ঠিত হচ্ছে না চাকরির অনেক পরীক্ষা। এ অবস্থায় বাসাভাড়া দিয়ে শহরে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বাসায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার অনলাইনে বিক্রি করে আয় করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতেও কাঙ্খিত সাড়া মিলছে না।

শুধু তাসনিম জেরিন নয়, করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীও। বিশেষ করে যাদের তাড়াতাড়ি পরিবারের হাল ধরতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার কারণে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা আটকে থাকাতে আবেদন করতে পারছেন না কোন চাকরিতেও। অন্যদিকে, পড়াশোনার পাশাপাশি খন্ডখালীন টিউশনও করোনার কারণে বন্ধ থাকায় তারা পড়ছে উভয় সংকটে। তবে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ভিন্ন উপায়ে আয়ের সন্ধানে নেমেছে অনেক শিক্ষার্থী।

এ প্রসঙ্গে চবি মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম আসিফ বলেন, করোনায় স্নাতকোত্তর পরীক্ষা আটকে যাওয়ার চরমভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কেননা একটা সরকারি চাকরির জন্য নির্দিষ্ট সময় হাতে রেখে ২ থেকে ৩ বছর ধৈর্য ধরে পড়তে হয়, সেই সময়টুকু টিউশন করে হয়তো নিজে চলা যায়, কিন্তু সংসার নয়। করোনাকালে চাকরির নিয়োগ তেমন হচ্ছে না বা কম তাতে বেকার সমস্যা আরো বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই করোনাকালে কিছুটা আয়ের পথ খুঁজতে বন্ধুরা মিলে তাই অনলাইনে শপিং বিজনেস শুরু করেছি।

ফোরকানুল আলম নামে চবি আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস যাবত পরীক্ষা না দিয়েই দিন কাল কাটাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় আছে যেমন এক ধরণের চাপ তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ছে চরম দুশ্চিন্তা। দ্রুত এ সংকট থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে। তা না হলে আমাদের মত হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে।

নগরীর আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম দা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনা মহামারি আসলে আমাদের জীবনকে ওলট-পালট করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের শিক্ষাখাতে। এ কঠিন বাস্তবতার মুখে আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিপথগামী না হয় সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গভীরভাবে ভাবা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানমুখী করতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। পাশাপাশি যারা অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তাদের চাকরির বাজারে আবেদন করার জন্য নিয়মাবলীতে কিছুটা শিথিলতা আনতে হবে। তাহলে তারা কিছুটা হলেও হতাশামুক্ত হবে।

জাতিসংঘের বেস্ট ডিপ্লোম্যাটস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
কুয়েট শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের নিন্দা, শিক্ষক সম…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
জীবনে বড় হয়ে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য:…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
৭ সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
খেই হারাল বাংলাদেশ, নতুন বলে চেপে ধরেছে অস্ট্রেলিয়া
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
হঠাৎ ছন্দপতন বাংলাদেশের, শতরানের লিড
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬