ব্রুসেলোসিস রোগে গাভীর দুধ কমে দৈনিক ১ লিটার, বছরে ডেইরি খাতে ক্ষতি আড়াই কোটি টাকা: বাকৃবির গবেষণা

২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ PM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষণা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষণা © টিডিসি ছবি

বাংলাদেশে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ডেইরি খাতে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Animal Disease-এ প্রকাশিত এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান।

গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ দশমিক ০১ লিটার এবং সুপ্ত বা লক্ষণহীন সংক্রমণে আক্রান্ত গাভী দৈনিক গড়ে ০ দশমিক ৫৩ লিটার কম দুধ উৎপাদন করে।

গবেষণায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক মো. শফিউল আলম, মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম লিজান, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর এস মাহমুদ হাসান এবং মিল্কভিটার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান। রোগ শনাক্তে আধুনিক গাণিতিক পদ্ধতি প্রয়োগে সহযোগিতা করেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস।

সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বাণিজ্যিক ডেইরি খামারের ২ হাজার ৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় প্রথমবারের মতো ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় সংক্রমণ—এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। গবেষকদের মতে, বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখালেও সুপ্ত সংক্রমণে আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং পরবর্তীতে রোগটি সক্রিয় আকার ধারণ করতে পারে।

অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান বলেন, ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গাভীর গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, প্রজনন ব্যর্থতা ও উৎপাদনক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে ‘রিটেইন্ড প্লাসেন্টা’ বা প্রসবের পর গর্ভফুল না পড়া রোগটির অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ।

গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণেই বড় ডেইরি খামারগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।

অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, অনেক খামারি শুধু গর্ভপাতের ঘটনা ঘটলে ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সংক্রমণের কারণেও প্রতিদিন গাভীপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ কমে যাচ্ছে, যা খামারিদের অজান্তেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

ক্ষতি কমাতে গবেষণায় পরিকল্পিত গণটিকাদানকে সবচেয়ে কার্যকর ও লাভজনক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, এই পদ্ধতিতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ খামারিদের জন্য ব্যয়বহুল।

গবেষকরা আরও সতর্ক করে বলেন, ব্রুসেলোসিস একটি জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত রোগ পর্যবেক্ষণ, উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ছোট-বড় সব ধরনের খামারে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

নিজেদের অন্তর্কোন্দলে বাইরে থেকে ট্রেজারার পাচ্ছে নোবিপ্রবি?
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
অটোনমিক নিউরোপ্যাথি কী, ঝুঁকিতে কারা— জেনে নিন
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তানে ভয়াবহ হামলা, ১২ সেনা সদস্যসহ নিহত ১৫
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
কাতারের আমিরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত…
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, রাষ্ট্রপ…
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
চটলেন নেইমার, বললেন— নিজের চরকায় তেল দিন
  • ২৪ জুলাই ২০২৬