হল ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় খাবারের অভাবে পড়ছে আবাসিক হলের কুকুর-বিড়ালগুলো © টিডিসি ফটো
ঈদের ছুটি এলেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা ক্যাম্পাসগুলো যেন হঠাৎ করেই নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কোলাহল, আড্ডা আর ব্যস্ততায় মুখর থাকা আবাসিক হলগুলোতে নেমে আসে নীরবতা। তবে এই নীরবতার মাঝেই শুরু হয় একদল অবলা প্রাণীর অসহায় জীবনসংগ্রাম। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হলগুলোতে থাকা বিড়াল ও কুকুরগুলো প্রতি ঈদের ছুটিতে পড়ে যায় চরম অনিশ্চয়তায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরেই অসংখ্য বিড়াল ও কুকুর আশ্রয় নিয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের স্নেহ-ভালোবাসায় তারা যেন ক্যাম্পাস জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হল-এ রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট বিড়ালের বাচ্চা। হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন তাদের খাবার দেয়, আদর করে এবং যত্ন নেয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হলের অনেক বিড়ালেরই নির্দিষ্ট নাম রয়েছে। কেউ কেউ খাবারের সময় ডাক দিলেই ছুটে আসে। হলের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো জো নামের একটি কুকুরকে নিয়েও শিক্ষার্থীদের আলাদা মমতা রয়েছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ খাবার দেয়, মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে। প্রাণীগুলোও যেন শিক্ষার্থীদের আপনজন হয়ে উঠেছে।
কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হলেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাওয়ায় প্রাণীগুলোর দেখভালের কেউ থাকে না। বিশেষ করে ছোট ছোট বিড়ালের বাচ্চাগুলো খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময় পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা থাকলে প্রতিদিন ওদের খাবার দিই। কিন্তু ঈদের সময় হল ফাঁকা হয়ে গেলে ওদের জন্য খুব খারাপ লাগে। ছোট বিড়ালগুলোর দিকে তাকালে অসহায় মনে হয়।’
প্রাণিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ছুটির সময় এসব প্রাণীর জন্য নিয়মিত খাবার ও ন্যূনতম পরিচর্যার ব্যবস্থা করা উচিত।