বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয় © সংগৃহীত
প্রতিবারের মতো এবারও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘Veterinarians: Guardians of Food and Health’, যার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ প্রাঙ্গণে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
র্যালি শেষে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান বিশ্বে ভেটেরিনারি পেশার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এর ভূমিকা, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জুনোটিক রোগ প্রতিরোধে ভেটেরিনারিয়ানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রাণীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভেটেরিনারিয়ানদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরে বলেন, মানুষের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি পশু-পাখির চিকিৎসাও একটি মহৎ ও মানবিক পেশা। আর এই মহৎ পেশায় নিয়োজিত ভেটেরিনারিয়ানদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত ক্রমাগত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে ভেটেরিনারিয়ানদের দক্ষতা, গবেষণা ও সেবাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান তার বক্তব্যে বলেন, ভেটেরিনারিয়ানরা শুধু প্রাণীর চিকিৎসকই নন, তারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দেশের টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থী ও নবীন ভেটেরিনারিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা: সোলেমা আক্তার শান্তা।
সমাপনী বক্তব্যে ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান ভেটেরিনারি পেশার সার্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ভেটেরিনারি সেবার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, আধুনিক জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পরিশেষে তিনি বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উদযাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে ভেটেরিনারি পেশার উন্নয়ন ও জনসেবায় সবাই একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সকল কার্যক্রম শেষে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভেটেরিনারি পেশার গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ও সচেতনতা আরও জোরদার হয়েছে বলে আয়োজকরা মনে করেন।