শেকৃবিতে ৪ বছরের অনার্স শেষ হয় ৫ বছরে

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৬ AM
শেকৃবি

শেকৃবি

সেশনজটের বিড়ম্বনায় পড়ছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ৪ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতি সেমিস্টারে ২-৩ মাস করে জটের ফলে ৪ বছরের স্নাতক শেষ করতে সময় লাগছে ৫ বছর বা তারও বেশি। কোনভাবেই যেন পিছু ছাড়ছে না এই অনাকাঙ্ক্ষিত সেশনজট। ফলে প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত এই সেশনজটের ফলে আবাসিক হলগুলোতেও দেখা দিচ্ছে তীব্র আসন সংকট। এতে দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষকদের ক্লাস এবং পরীক্ষা না নেয়া, অনিয়ন্ত্রিতভাবে শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমন, পর্যাপ্ত পরীক্ষা হল ও গবেষণাগারের (ল্যাব) অভাব, খাতা মূল্যায়ণে শিক্ষকদের অনীহা ও সময় মত ফলাফল প্রকাশ না করার ফলে সেশনজটে আটকে যাচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচার, এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও ফিশারিজ এন্ড একোয়াকালচার এই ৪টি অনুষদের তত্ত্বাবধায়নে দেওয়া হয় ৫টি ডিগ্রি। এগ্রিকালচার অনুষদে ৪ বছরে স্নাতক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি শেষ হতে সময় লাগছে ৫বছর বা তারও বেশি সময়। এই অনুষদের ৭৩তম ব্যাচের (২০১৩-১৪ সেশন) শিক্ষার্থীদের এই বছরের জানুয়ারিতে স্নাতক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর ফাইনাল পরীক্ষাই শেষ হয়নি। এই অনুষদের ৭৭তম ব্যাচ (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) ২ মাস, ৭৬ তম ব্যাচ (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) ৫ মাস, ৭৫ তম ব্যাচ (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) ৬ মাস,৭৪ তম ব্যাচ (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) ৮ মাস এবং ৭৩ তম ব্যাচ ১১ মাস পিছিয়ে রয়েছে।

অনুষদের ৭২তম ব্যাচের ছাত্র মুক্তার আলী বলেন, প্রতি সেমিস্টারে ২-৩ মাস বিলম্ব যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় মত ফলাফল প্রকাশ না করা এর অন্যতম কারণ। বেশিরভাগ সময়ই ফলাফল পেতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। ফলে কখনো কখনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ হলেও ফলাফল জটিলতার কারণে আমরা যথাসময়ে পরীক্ষায় বসতে পারি না।

আগের বছরগুলোতে এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সেশনজট কিছুটা কম থাকলেও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বনা এবং কৃত্তিম শিক্ষক সংকট এই অনুষদের সেশনজটকে বেগবান করেছে। এই অনুষদের ১০টি বিভাগে প্রায় ৩৫০জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে ২৪জন শিক্ষক। এই ২৪জন শিক্ষকের মধ্যে ১১জন শিক্ষকই রয়েছেন ডেপুটেশনে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ছে।

এনিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে ৫ বছর মেয়াদী বিএসসি কোর্সে ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২ মাস, ৭৬ তম ব্যাচ ৩ মাস, ৭৫ তম ব্যাচ৫ মাস,৭৪ তম ব্যাচ ৪ মাস এবং ৭৩ তম ব্যাচ ২ মাস পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে ২০১৬ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডিগ্রী পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনের হয়। ফলে সেই সময়কার সকল ব্যাচই ৬ মাস পিছিয়ে পড়ে। আন্দোলনের জন্য ৬ মাস পিছিয়ে পড়লেও গতানুগতিক সেশনজট থেকে রেহাই পায়নি এই অনুষদের শিক্ষার্থীর। এমনকি আন্দোলনের পরে নতুনভাবে ভর্তি হওয়া ৭৬তম ব্যাচের (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ)শিক্ষার্থীরাও ৩ মাস পিছিয়ে রয়েছে। এই অনুষদের বাকি ব্যাচগুলোর মধ্যে ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১.৫ মাস, ৭৫ ও ৭৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১১ মাস এবং ৭৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১ বছর পিছিয়ে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৭৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, এমনিতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যায়লে পরীক্ষার ফলাফল দিতে অনেক দেরী করে তারওপর আবার একজন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে অকৃতকার্য হলে সেটি পরবর্তী সেমিস্টারে ক্যারি করতে পারে না। ফলে অকৃতকার্য বিষয়টিতে তাকে পুনরায় পরীক্ষা (মেকআপ) দিতে দেওয়া হয়। অকৃতকার্য শিক্ষার্থী প্রতি বিষয়ে ২বার মেকআপ দেওয়ার সুযোগ পায়। ফলে দেখা যায়, কোর্স শেষ হওয়ার পরও গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর মেক-আপ পরীক্ষার জন্য পুরো ব্যাচকে অপেক্ষা করতে হয়।

অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মিজানুল হক কাজল বলেন, আগে আমাদের অনুষদ থেকে ১টি ডিগ্রী দেওয়া হলেও এখন ২টি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এই অনুষদে ৩২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৩২জন শিক্ষক রয়েছে। তার মধ্যে আবার ১১জনই ডেপুটেশনে। শিক্ষক স্বল্পতার জন্য যথেষ্ট অান্তরিকতা থাকার পরও সবকিছু সামাল দিয়ে স্বল্প সময়ে পরীক্ষার নম্বর জমা দিতে কিছু শিক্ষকের জন্য রীতিমত কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে,আবার কিছু কিছু শিক্ষকের অবহেলাও ফলাফল বিলম্বের জন্য দায়ী। এছাড়াও মেকআপ পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পিছানো সেমিস্টার পিছিয়ে যাবার অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি।”

২০১৭ সালে যাত্রা করা বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন অনুষদ ফিশারিজ এন্ড একুয়াকালচার। নতুন হলেও এই অনুষদের শিক্ষার্থীদের সেশন জট থেকে মুক্তি মেলেনি। এই অনুষদের ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি কোর্সের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর ২ মাস, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ৩ মাস একাডেমির নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

সেশন জটের সার্বিক ব্যপারে শেকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড.কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, আমরা কখনোই চাই না আমাদের ছাত্ররা সেশন জটে পডুক। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পেছানোর প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব সেশন জটের অন্যতম কারণ। তবে সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বদইচ্ছার পাশাপাশি শিক্ষকরাও যদি একটু পরিশ্রমী হন তাহলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সেশনজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

রাবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করায় তীব্র প্রত…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের বরিশাল সফরের তারিখ পেছাল
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে: আজিজি
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ল ৪০ কেজির বিরল প্রজাতির কচ্ছপ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬