বুয়েটের আবেদন শুরু আজ © সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে। আবেদনপত্র জমা শেষ হবে আগামী সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা পর্যন্ত। বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে প্রাক-নির্বাচনি ভর্তি পরীক্ষা ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
গত বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জীবন পোদ্দার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবেদনপত্র গ্রহণ, প্রাক-নির্বচনী পরীক্ষা, মূল ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচী
১। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা শুরু: ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা।
২। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা শেষ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার বিকেল ৩টা ।
৩। মোবাইল/অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে আবেদন ফি প্রদান শেষ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা।
৪। E, T, S, R চিহ্নিত আবেদনপত্র সরাসরি রেজিস্ট্রার অফিসের ভর্তি শাখায় জমা দেয়া অথবা রেজিস্টার্ড ডাকযোগে/কুরিয়ারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার অফিসে প্রেরণ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ শনিবার থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মঙ্গলবার (শুক্রবার ও সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) সকাল ১০:০০টা বিকাল ৩:০০টা (সরাসরি জমা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।
৫। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য আবেদনকারীদের নামের তালিকা প্রকাশের সর্বশেষ তারিখ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার।
৬। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা: শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
৭। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শনিবার
শিফট ০১ — 'ক' ও 'খ' গ্রুপ : সকাল ১০:০০টা থেকে সকাল ১১:০০টা। শিফট ০২— 'ক' ও 'খ' গ্রুপ : বিকাল ৩:০০টা থেকে বিকাল ৪:০০টা। মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য আবেদনকারীদের নামের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ: বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
৮। মূল ভর্তি পরীক্ষা: শনিবার ৯ মার্চ ২০২৪
৯। ভর্তির জন্য নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ: ৩১ মার্চ ২০২৪, রবিবার
ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা
যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ২০২০ বা ২০২১ সালে মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, অথবা ২০২০ সালে মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষার সংশোধিত ফলাফল ১২ মার্চ, ২০২৩ তারিখের পরে শিক্ষা বোর্ড থেকে ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছেন, অথবা ২০১৯ সালের নভেম্বর বা তার পরে GCE "O" লেভেল এবং ২০২২ সালের নভেম্বর অথবা তার পরে GCE "A" লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছেন, অন্যান্য শর্তপূরণ সাপেক্ষে শুধুমাত্র তাঁরাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ইতোপূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন অথবা অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছেন তাঁরা এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা
প্রার্থীকে বাংলাদেশের যেকোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড/মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড/কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রেড পদ্ধতিতে বিজ্ঞান বিভাগে (গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নসহ) ৫.০০ এর স্কেলে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ পেয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/দাখিল/সমমানের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে অথবা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে সমতুল্য গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে।
প্রার্থীকে বাংলাদেশের যেকোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড / মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড / কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক / আলীম/ সমমানের পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতিতে ৫.০০ এর স্কেলে জিপিএ ৫.০০ এবং উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয় সমূহের প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপি ৫.০০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক / আলীম/ সমমানের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে অথবা বিদেশী শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে সমতুল্য গ্রেড / নম্বর পেয়ে পাশ করতে হবে।
যে সব প্রার্থী ২০২০ সালে মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় তাদের সংশোধিত ফলাফল ১২ মার্চ, ২০২৩ তারিখের পরে শিক্ষা বোর্ড থেকে ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছেন, সেক্ষেত্রে তাদেরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড / মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড / কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক / আলীম/ সমমানের পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতিতে ৫.০০ এর স্কেলে জিপিএ ৫.০০ এবং উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়সমূহের প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপি ৫.০০ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক / আলীম/ সমমানের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে অথবা বিদেশী শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে সমতুল্য গ্রেড/ নম্বর পেয়ে পাশ করতে হবে।
সকল সঠিক আবেদনকারীর মধ্য হতে বাছাই করে ১ম থেকে ১৮০০০তম পর্যন্ত সকল আবেদনকারীকে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে। এই বাছাইয়ের জন্য যথাক্রমে আবেদনকারীর উচ্চ মাধ্যমিক / সমমান পরীক্ষায় উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয় তিনটিতে প্রাপ্ত মোট নম্বর এবং উচ্চতর গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরকে অগ্রাধিকারের ক্রম হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
GCE "O" লেভেল এবং GCE "A" লেভেল পাশ করা প্রার্থীদের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য GCE "O" লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি বিষয় (গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং ইংরেজিসহ) এর প্রতিটিতে ন্যূনতম B গ্রেড এবং GCE "A" লেভেল পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিন বিষয়ের যেকোনো দুইটিতে ন্যূনতম A গ্রেড এবং একটিতে ন্যূনতম B গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে।
ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে GCE "O" লেভেল এবং GCE "A" লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্ত সকল সঠিক আবেদনকারীর মধ্য হতে উপরে উল্লেখিত নির্ধারিত গ্রেডের ভিত্তিতে বাছাই করে ১ম থেকে ৪০০তম পর্যন্ত সকল আবেদনকারীকে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে। এই বাছাইয়ের জন্য যথাক্রমে আবেদনকারীর GCE "A" লেভেল পরীক্ষায় গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত গ্রেডকে অগ্রাধিকারের ক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভূক্ত সকল সঠিক আবেদনকারীকে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।
উপরোল্লেখিত শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের দুইটি শিফটে বিভক্ত করে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা নেয়া হবে। পরিসংখ্যান ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিটি শিফটে প্রার্থীদের মেধার বিন্যাসের সমতুল্যতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.buet.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।
প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের মেধাক্রম অনুসারে প্রতি শিফটের ১ম থেকে ৩০০০তম শিক্ষার্থীকে মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হবে। ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীভুক্ত ন্যূনতম ১২ জন পরীক্ষার্থী (পর্যাপ্ত আবেদন গ্রহণ সাপেক্ষে) মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.buet.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: ২ দিনে লাখ ছাড়াল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন
আসন সংখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রকৌশল বিভাগসমূহ ও নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মোট ৩টি এবং স্থাপত্য বিভাগে ১টি সংরক্ষিত আসনসহ সর্বমোট আসন সংখ্যা ১৩০৯টি।
সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময় থাকবে ১ ঘন্টা। প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরের ধাপে চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আবেদন করার নিয়ম
আবেদন করার নিয়ম ভর্তির নির্দেশিকা (Guidelines for Admission to Undergraduate Program) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.buet.ac.bd)-এ পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে তা অনলাইনে Submit করতে হবে। Submit করা শেষে একটি Application Serial No, প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে এই নম্বরের বিপরীতে BUET এর website-এ বর্ণিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষা বাবদ প্রদেয় ফি জমা দিতে হবে। অতঃপর আবেদনটি চূড়ান্তভাবে দাখিল (Final Submit) করতে হবে।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, বিকাল ৩:০০টার পর অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ আর শুরু করা যাবে না এবং ঐদিনই বিকাল ৫.৩০ মিনিটে অনলাইনে আবেদনের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাবে; এরপর অনলাইনে আর কোন আবেদনপত্র Submit করা যাবে না।