ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াড ২০১৮
ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াডের পঞ্চম আসর থেকে বাংলাদেশের পক্ষে উন্মুক্ত বিভাগে পাঁচটি সমস্যার নিখুঁত সমাধান করে স্বর্ণ পদক লাভ করেন জয়দীপ সাহা। এছাড়া ছয়টি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশ।
এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জয়দীপ সাহা মোট ৪০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেয়েছেন। এ বছর রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডেও তিনি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলেন। অলিম্পিয়াড সম্পর্কে জয়দীপের বলেন, ‘এবারের অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা বেশ কঠিন ছিল। প্রথম হব ভাবিনি। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিই এই প্রতিযোগিতাতেও কাজে লেগেছে।
এছাড়া একই ক্যাটাগরিতে এইচএসসি উত্তীর্ণ তামজিদ মোরশেদ রুবাব ও মেহেদী হাসান নওশাদ ব্রোঞ্জ পদক, অ্যাডভান্স ক্যাটাগরিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের আহমেদ ইতিহাদ হাবীব, নটর ডেম কলেজের সাদ বিন কুদ্দুস, রাইয়ান জামিল ও মাশরুর হাসান ভূঁইয়া ও এসএএস হারম্যান মেইনার কলেজের আহসান আল মাহির লাজিম রৌপ্য পদক এবং এলিমেন্টারি ক্যাটাগরিতে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ও কলেজের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইপ্সিতা জাহান রৌপ্য ও সিরাজগঞ্জ স্কলার স্কুলরে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নবনীতা পাল ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।
জানা যায়, জ্যামিতি অলিম্পিয়াড হলেও এই পরীক্ষায় শুধু জ্যামিতিনির্ভর সমস্যার উত্তর মেলানোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সৃজনশীল উপায়ে কীভাবে সমস্যাকে বিস্তৃত করে সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারেও উৎসাহ দেওয়া হয়। মুখস্থ কোনো সূত্র কিংবা উপপাদ্য দিয়ে অলিম্পিয়াডের সমস্যা সমাধান করা কঠিন কাজ। যুক্তি আর জ্যামিতির মৌলিক ভিত্তিকে উপজীব্য করেই সমস্যা সমাধান করতে হয়।
ইরানের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যামিতিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ২০১৪ সালে এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড শুরু হয়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের উদ্যোগে ডাচ বাংলা ব্যাংক ও প্রথম আলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ২০১৬ সাল থেকে এই অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। এবারের অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ সহ মোট ৫৬টি দেশের ৭০৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে নিজ দেশে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের চার ঘণ্টায় পাঁচটি জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান করতে হয়।
প্রসঙ্গত, ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশি মূল্যায়নকারীদের মূল্যায়নের পর এসব উত্তরপত্র ইরানে পাঠানো হয়। পরে তাদের মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। প্রতিযোগিতায় উন্মুক্ত ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের পরেই আছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের শিক্ষার্থী ট্রুওং মানহ তুন ও দো জুয়ান লং প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।