‘এমন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট আগে দেখিনি’—ট্রাম্পকে ওবামা

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা © টিডিসি সম্পাদিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার ব্যবহার ও ইরাননীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমে তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট আগে দেখা যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই নেতা। খবর রয়টার্সের।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড ও মিশিগানের ডেট্রয়েটে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন ওবামা। সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচারের সময় তিনি ৩ নভেম্বরের ভোটকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির লাগাম টেনে ধরার সুযোগ বলছেন তিনি।

ওবামা বলেছেন, ‘আমাদের এই সার্কিট ব্রেকারটি চালু করতে হবে, যাতে অন্তত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কিছু বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই সরকারের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে হবে।’

এরপর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জনগণের পকেটের অর্থে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে এতটা পারদর্শী কোনো প্রেসিডেন্ট আমরা আগে দেখিনি। সুবিধা বিক্রি করতে এতটা আগ্রহী প্রেসিডেন্টও আগে দেখা যায়নি।’ তার অভিযোগ, রিপাবলিকান পার্টি এখন দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ কিংবা কার্যত অকার্যকর সরকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জরিপেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসন্তোষ
ওবামার বক্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওবামাকে ‘চরম অযোগ্য প্রেসিডেন্ট’ বলেছেন। একই পোস্টে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধেও উপহাসমূলক মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে, রয়টার্স ও ইপসোসের আগস্টের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অনুচিতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। একই জরিপে ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে। তবে এসব পরিসংখ্যান জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত তুলে ধরে। এগুলো নিজেরাই কোনো অনিয়মের বিচারিক প্রমাণ নয়।

ইরান যুদ্ধ নিয়েও ক্ষোভ ওবামার

ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি নিয়েও সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে বিজয়ের দাবি করা হলেও যুদ্ধ দেশটির অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ওবামা আরো বলেছেন, ‘এখন হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছায়।’

জবাবে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে যায়।

হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে কটাক্ষ

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, সেনাদের চোয়ালের গঠন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো বিষয় নিয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত ব্যস্ত। হোয়াইট হাউসের নতুন সাজসজ্জা নিয়ে ওবামা বলেন, ‘হোয়াইট হাউসটাকে এমন দেখাচ্ছে, যেন সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। ওবামা ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। তাঁর প্রচারে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য হলো দলীয় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করা।

মিশিগানে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স, যিনি প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক সদস্য। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ হবে।

বুটেক্সের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৮ মার্চ, উপস্থিত থাকতে রাষ্ট্রপ…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আ…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বাউফলে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ শোভাযাত্রা
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে গণবিক্ষোভে নামছে এনসিপি
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ১৮
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ডি থ্রি ট্রফির নিলামে প্রথম ধাপ শেষে কোন দলে কোন ক্রিকেটার
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬