কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর © সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, ধরপাকড় ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর। দিল্লিতে চলমান পরিস্থিতিকে ‘ইমার-জেনজি’ বলে উল্লেখ করেন থারুর। ‘ইমার্জেন্সি’ ও ‘জেনজি’ শব্দ মিলিয়ে তিনি ইমার্জেন-জি শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নকে স্বাগত জানানো উচিত আত্মবিশ্বাসী সরকারের। রাজধানীকে দুর্গে পরিণত করে সেই প্রশ্ন এড়ানোর চেষ্টা করলে জনমনে সন্দেহ আরও বাড়বে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শশী থারুর এসব কথা বলেন। দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপের পর তিনি এ সমালোচনা করেন।
থারুর লিখেছেন, ‘যে সরকার তার নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তারা এ বিষয়ে প্রশ্নকে স্বাগত জানাবে। অন্যদিকে, যে সরকার প্রশ্ন এড়াতে রাজধানীকে দুর্গে পরিণত করে, তারা যে সন্দেহ দমন করতে চায়, তা আরও বাড়িয়ে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত লাঠির বদলে উত্তর দেওয়া, দমনের বদলে মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া। ব্যারিকেড দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না। জনগণের প্রশ্নের উত্তর যত দ্রুত দেওয়া হবে, পরিস্থিতিও তত দ্রুত শান্ত হবে।’
রাজধানীতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে থারুর বলেন, দিল্লিতে এমন পরিস্থিতি তিনি খুব কমই দেখেছেন। কয়েক শ মিটার পরপর তল্লাশিচৌকি, সড়কে কংক্রিটের ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ বসানো এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
থারুরের ভাষ্য, ‘রাত ২টার পর আমি রাজধানীতে ফিরেছি। দিল্লিতে এখন যা দেখছি, তা খুব কমই দেখেছি। কয়েক শ মিটার পরপর তল্লাশিচৌকি, সড়কজুড়ে কংক্রিটের ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ, পুরো শহরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো ২২ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, ২৫০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় নিজেদের বাড়ি ও সড়ক থেকে তরুণদের আটক করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসবই করা হচ্ছে নাগরিকদের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তোলা ঠেকাতে।’
রাজধানীর কেন্দ্রে ইন্টারনেট বন্ধ রাখারও সমালোচনা করেন থারুর। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল ও দমনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এতে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
থারুর বলেন, ‘জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল এবং একই সঙ্গে দমনমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি শৃঙ্খলিত করা হয়েছে। নাগরিকেরা যাতে দিল্লির কেন্দ্রে নিজেদের মতবিরোধ ও প্রতিবাদ জানাতে পারেন, সে কারণেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ আজ সেখানে যাওয়ার সড়কগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায় না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কংগ্রেসের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজধানীতে নারীদের সুরক্ষার প্রয়োজন হলে এই বিপুল জনবল ও তৎপরতা কোথায় হারিয়ে যায়, তা প্রশ্ন করার অধিকার মানুষের রয়েছে।’
দিল্লিতে চলমান পরিস্থিতিকে ‘ইমার-জেনজি’ বলে উল্লেখ করেন থারুর। ‘ইমার্জেন্সি’ ও ‘জেনজি’ শব্দ মিলিয়ে তিনি এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভকারীরা সোমবার আবারও কর্মসূচি নিয়ে ফিরলে কর্তৃপক্ষ কি আবারও পুরো রাজধানী অচল করে দেবে?
থারুর বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। বিক্ষোভকারীরা যদি সোমবার আবার ফিরে আসেন, তাহলে কি কর্তৃপক্ষ আবারও পুরো রাজধানী অবরুদ্ধ করবে? আমাদের জেনজি প্রজন্ম এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে; অঘোষিত “ইমার-জেনজি” নয়।’
শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি ঘিরে সিজেপির নেতাকর্মীসহ শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।