মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে তার মালিকানাধীন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ লিংকস রিসোর্টে আয়োজিত অ্যামজেন আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এটি শেষ হতে পারে, আবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও এটি শেষ হতে পারে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না বলে স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো চুক্তি করব না, যা ভালো নয়।’
যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে বলেও পূর্বাভাস দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাবে’।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৩১ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৪ দশমিক ০৭ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার।
তবে ট্রাম্পের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি। সংবাদমাধ্যমটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো বাড়ছে। আর এসব সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবেও না।’
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ট্রাম্পকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এসব পরোয়া করি না। এটা তাদের বিষয়।’
এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বজায় রাখার সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে চলে যাব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিই, যেমন ভেনেজুয়েলায় করেছি।’
ইরান যুদ্ধ এরই মধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।