ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি © সংগৃহীত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের দ্বিধা ও ভয় দূর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে ইউক্রেনের পাশে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ১ হাজার ৬৪৩তম দিন পার করছে। এ সময় তিনি ইউক্রেনের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমেরিকা রাশিয়াকে নিয়ে তার সব দ্বিধা ও ভয় কাটিয়ে উঠবে। রাশিয়ানদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা মূলত স্থবির হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউরোপকে ‘ঐক্যবদ্ধ’, ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ এবং ‘সাহসী’ হতে হবে।
জেলেনস্কি মনে করেন, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঐক্য ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে চীনের অবস্থান নিয়েও কথা বলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, চীনের আর নীরব থাকা উচিত নয়। যুদ্ধের অবসানে চীনেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ভাষণে ইউক্রেনের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও প্রশংসা করেন জেলেনস্কি। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে একটি ‘বিশাল ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন যে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রেখেছে, তার প্রতি তিনি গুরুত্ব দেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া জেলেনস্কির এই ভাষণে মূলত ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন অব্যাহত রাখা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা এবং রাশিয়াকে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের পথে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।