প্রিন্স হ্যারিসহ বাকিরা © সংগৃহীত
গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় প্রিন্স হ্যারিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে ডেইলি মেইলের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেড (এএনএল)। মামলায় হেরে যাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা আইনি খরচ হিসেবে ডেইলি মেইলের প্রকাশককে দিতে হবে প্রিন্স হ্যারিসহ সাতজনকে। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে তাদের আরও সর্বোচ্চ প্রায় ৪১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দিতে হতে পারে।
মামলায় প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও ছিলেন স্যার এলটন জন, তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, স্যার সাইমন হিউজ, স্যাডি ফ্রস্ট, লিজ হার্লি এবং ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স। তারা এএনএলের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। তবে প্রকাশক প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছিল।
গত ৭ জুলাই বিচারক মিস্টার জাস্টিস নিকলিন মামলাটি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পক্ষে বাদীরা যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি।
মামলাটি যেভাবে করা হয়েছিল, সে কারণে সংবাদপত্রটির প্রকাশক প্রতিষ্ঠানের হওয়া আইনি খরচের সর্বোচ্চ প্রায় ৫৭৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধের জন্য প্রিন্স হ্যারিসহ অন্যদের বাধ্য করার ক্ষেত্রে বিচারক ‘ব্যতিক্রমী’ আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে এএনএলের শীর্ষ কর্মকর্তারা লেভেসন পাবলিক ইনকোয়ারিতে মিথ্যা বলেছিলেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও মামলায় তোলা হয়েছিল।
প্রিন্স হ্যারিসহ অন্য ছয় বাদীকে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিচারক আরও বলেছেন, আগে যেসব খরচের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাদে এএনএলের আইনি খরচ ‘ইনডেমনিটি’ ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। এই পদ্ধতিতে প্রকাশক প্রতিষ্ঠানটি তার আইনি খরচের তুলনামূলক বেশি অংশ আদায় করতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএনএল আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি সংবাদপত্র এবং এর সাংবাদিক, সম্পাদক ও নির্বাহীদের সুনাম ধ্বংসের চেষ্টার একটি ভয়াবহ সমালোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তের কয়েক দিন আগেই ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর্চির বয়স সাত বছর এবং লিলিবেটের পাঁচ বছর।
আগামী সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া সাতজন হলেন—প্রিন্স হ্যারি, স্যার এলটন জন ও তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, স্যার সাইমন হিউজ, স্যাডি ফ্রস্ট, লিজ হার্লি এবং ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স।
মামলার বিচার চলাকালে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য বাদীসহ কয়েক ডজন ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দেন। ডিউক অব সাসেক্স যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে এসে ব্যক্তিগতভাবে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন।
অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের বর্তমান ও সাবেক অনেক সাংবাদিক এবং নির্বাহীও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
গত মাসে বিচারকের রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারি ও আরেক বাদী ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি চেয়ে আদালতে এসেছিলাম। কিন্তু আমরা কোনোটিই পাইনি।’
তারা আরও বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ এবং স্পষ্টভাবে সত্যকে আড়াল করার একটি চেষ্টা। তবে দুঃখজনক হলেও এটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না।’
এএনএল ভবিষ্যতের শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির আইনি খরচের বিস্তারিত পরিমাণ নির্ধারণের আগে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ হিসেবে প্রায় ১৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা চেয়েছিল।
তবে বাদীদের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে প্রায় ১৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা দিলেই যথেষ্ট হবে।
মিস্টার জাস্টিস নিকলিন এর আগে জানিয়েছিলেন, বাদীদের ২৮ আগস্টের মধ্যে এই অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ পরিশোধ করতে হবে।