প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের কাছে অবস্থিত ‘কামপি ফ্লেগ্রেই’ এলাকায় ৪ দশমিক ৭ মাত্রার একটি মাঝারি মানের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূকম্পনে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং ট্রেন ও মেট্রো চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি জানিয়েছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের পর আরও অন্তত ৬০টি মৃদু কম্পন (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটে অনুভূত ৩.১ মাত্রার কম্পনটি নেপলস ছাড়াও বাকোলি ও পোজুওলি এলাকায় বাসিন্দারা স্পষ্ট অনুভব করেন। ভূমিকম্পটির তীব্রতা পুরো নেপলস, ইসচিয়া দ্বীপ এবং সোরেন্টো উপদ্বীপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
গবেষকরা জানান, গত ৪০ বছরের মধ্যে এটিই ওই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পোজুওলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি রিপোর্ট করা হয়েছে। সেখানে একটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং ভারী ধ্বংসাবশেষ নিচে পার্ক করা গাড়ির ওপর পড়লেও এতে সরাসরি কেউ আহত হননি। তবে পুরো ঘটনায় আড়াই শতাধিক মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়ার আশঙ্কায় বহু বাসিন্দা পুরো রাত রাস্তায় কাটাতে বাধ্য হন।
জনবহুল এই আগ্নেয়গিরি অধ্যুষিত এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরকারের পক্ষ থেকে সমগ্র অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও গবেষকদের মতে, ১৯৮০-এর দশকের ভূকম্পন সংকটের পর এটিই এই এলাকার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ইতালি একটি অত্যন্ত ভূকম্পনপ্রবণ দেশ। এর আগেও বহুবার বড় আকারের ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।