প্রতি কেজি ৭ লাখ, এক গাছ ৭ কোটি, সোনা-হিরা-লাল চন্দনের চেয়েও বহু দামি এই গাছের নাম কী?

১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ PM , আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ PM
আফ্রিকান ব্ল্যাকউড

আফ্রিকান ব্ল্যাকউড © টিডিসি সম্পাদিত

চন্দনের থেকেও বহু গুণ দামি! এই বিরল গাছের কাঠের মূল্য কয়েক লক্ষ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। জানেন কোথায় রয়েছে এই গাছ? কী নাম এই গাছের? জানা গেছে, বিশ্বে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলির দাম আকাশচুম্বি। সোনা, হিরে বা বিরল ধাতুর মতোই কিছু গাছের কাঠও অত্যন্ত মূল্যবান।

সাধারণত চন্দন কাঠের দাম বেশি বলে জানেন সবাই। সুগন্ধ, ঔষধি গুণ এবং সীমিত প্রাপ্যতার কারণে এই চন্দনের চাহিদা বরাবরই বেশি। কিন্তু এমন একটি বিরল কাঠ রয়েছে, যার দাম চন্দনের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এই কাঠের প্রতি কেজির মূল্য কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কাঠগুলির তালিকায় এর নাম সবার উপরে। কিন্তু কোন গাছ এটি? কোথায় পাওয়া যায়?

এই বিরল গাছটির নাম আফ্রিকান ব্ল্যাকউড (African Blackwood)। মূলত আফ্রিকার তানজানিয়া, কেনিয়া, মোজাম্বিক এবং আশপাশের শুষ্ক অঞ্চলে এই গাছ জন্মায়।

আফ্রিকান ব্ল্যাকউড

ভারতে চন্দন কাঠের দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু এই আফ্রিকান ব্ল্যাকউডের কাঠের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৭ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে প্রায় ১০০ কেজি বা তারও বেশি কাঠ পাওয়া যায়। সেই হিসেবে একটি গাছের মূল্য ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

কেন এই কাঠের এত দাম বেশি? এই কাঠের দাম এতটা বেশি তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এটি সারা পৃথিবীতে খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এটি অন্যান্য কাঠের তুলনায় বেশি শক্ত। আর এই গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্রের ফিনিশ খুব মসৃণ হয়। তাই এই কাঠ দিয়ে তৈরি হয় বিশ্বের সেরা মানের বাদ্যযন্ত্র, বিলাসবহুল হ্যান্ডক্রাফ্ট এবং বিশেষ কারুকাজের সামগ্রী।

এ ছাড়াও এই কাঠ মূলত উচ্চমানের শেহনাই, বাঁশি, ক্ল্যারিনেট, ওবো, গিটার-সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বিলাসবহুল আসবাবপত্র, হ্যান্ডক্রাফ্ট ও কারুকাজের সামগ্রী তৈরিতেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। কাঠের গাঢ় কালো রং, সূক্ষ্ম টেক্সচার এবং অসাধারণ টেকসইয়ের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের প্রথম পছন্দ এই গাছের কাঠ।

তবে এই গাছের একটি বড় সমস্যা হলো, এটি খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। একটি গাছ সম্পূর্ণ পরিণত হতে প্রায় ৬০ বছর সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই অনেক সময় অবৈধ কাঠ পাচারকারীরা গাছ বড় হওয়ার আগেই কেটে ফেলে। এর জেরে দ্রুত এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারেও চরা দামে এটি বিক্রি হচ্ছে।

গাছটিকে বাঁচানোর জন্য তানজানিয়ার এই গাছের ওপর বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক এলাকায় বনরক্ষী ও সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীরা এই গাছ পাহারা দেন, যাতে অবৈধভাবে কেউ কাটতে না পারেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, উপযুক্ত জলবায়ু ও পরিচর্যা থাকলে কিছু অঞ্চলে এই গাছ জন্মানো সম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে এখানে জন্মায় না, তবে কিছু বাগান ও নার্সারিতে এই গাছের চারা পাওয়া যায়।

আফ্রিকান ব্ল্যাকউড শুধু একটি গাছ নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কাঠের উৎস। এর বিরলতা, উচ্চমান এবং সীমিত প্রাপ্যতার কারণেই এই গাছ কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে বলে জানান তারা।

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
  • ১১ জুলাই ২০২৬
হাসপাতালে মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে গেলেন প্রধ…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
পাহাড়ধসে ঝুঁকিতে লামার চাম্বি বিদ্যালয় ও কলেজের ৪ কোটি টাকা…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
‘বাকি সব সরকার পালিয়ে যায়, হারিয়ে যায়, কিন্তু বিএনপি সর…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ পেলেন শেকৃবির অধ্যাপক কাজী …
  • ১১ জুলাই ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ইবি প্রশাসনের লাল ব্যাচ ধারণ কর্মসূ…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence