প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো © সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে দেশবাসীকে সংহতির বার্তা পাঠিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি। মাদুরোর অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলের একটি পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বার্তায় মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো বলেছেন, আজকের বার্তা একটাই: সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।
চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসের প্রেসিডেন্সিয়াল বাস ভবন থেকে মার্কিন বাহিনী মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। সেখানে তাদের মাদক পাচার এবং অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
টেলিগ্রাম পোস্টে মাদুরো বলেন, কেউ যেন একা না থাকে, প্রতিটি সম্প্রদায় যেন তাদের সন্তান, দাদা-দাদি, অসুস্থদের যত্ন নেয়। তিনি জনগণকে উদ্ধার ও চিকিৎসা দলের কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা অনেক বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে, এবং আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতি নিয়ে এই পরিস্থিতি থেকেও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসব।
ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে রাজধানী কারাকাসে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়ে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যদিও প্রাথমিকভাবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর মাত্রা ৭ দশমিক ১ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউএসজিএস বলছে, এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। ইউএসজিএসের মতে, এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর বারিনাস রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি উইলমার আজুয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষ এবং আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে যেতে দেখা যায়।
চাকাও পৌরসভার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, কারাকাস মহানগর এলাকার অংশ হিসেবে তার পৌরসভায় অন্তত দুটি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো। তিনি বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু স্থাপনা ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা গ্যাস থেকে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটুক, তা চাই না।’
অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতির কারণে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘গুরুতর ক্ষতির’ কারণে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও আপাতত বন্ধ থাকবে।
দেলসি রদ্রিগেজ আরও জানান, উদ্ধার ও জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন সেনাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সব ধরনের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবুও ইউএসজিএসের সতর্কতা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।