তুরস্কের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র © টিডিসি ফটো
প্রথমবারের মতো একটি দূর পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে তুরস্ক। গতকাল মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা এক্সপো’তে তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলার এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তুর্কি প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় তুরস্ক এখন নিজের স্থান করে নিয়েছে।
তুরস্কের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইয়েলদিরিমহান’। এর পাল্লা ৬ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করেছে তারা। ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দেশটি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানতে পারবে। ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
এতে চারটি ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি তরল নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি শব্দের থেকে ৯ থেকে ২৫ গুণ বেশি হতে পারে। এটি প্রায় ৩,০০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র নিজস্ব প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে।
তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত বাড়িয়েছে। দেশটির কোম্পানিগুলো নিয়মিত নতুন অস্ত্র তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করছে। আঙ্কারা অস্ত্র রপ্তানিকে বৈদেশিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে তুরস্কের অস্ত্র অনেক দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেন, ‘এই যুগে যেখানে অর্থনৈতিক খরচ একটি অসম মরণাস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে তুরস্ক তার মিত্রদের শুধু অস্ত্র ব্যবস্থাপনাই দিচ্ছে না, বরং প্রযুক্তি এবং একটি টেকসই নিরাপত্তা অর্থনীতিও উপহার দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন বা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম গোলাবারুদগুলো ন্যাটোর মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলো সাশ্রয়ী হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।’
তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে কৌশলগত প্রয়োজন থেকে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো বাহিনী ভূপাতিত করার ঘটনাও তুরস্ককে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও সিরিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিও তুরস্ককে নতুন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি তুরস্কের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০২৬ সালের সাহা প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
উন্মোচনের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ফলেই তারা এই সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ককে সামরিক শক্তিতে আরও এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে এটি দেশটিকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারেও আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।